ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা

সংগৃহীত ছবি

আইন-আদালত

ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা বললেন কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ মার্চ, ২০২০

সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের বাড়িতে মধ্যরাতে হানা এবং তাকে নির্যাতনের ঘটনায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম ছাড়ার আগে ডিসি সুলতানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফেসবুকে তার দেওয়া স্ট্যাটাসটির উল্লেখযোগ্য অংশ হুবহু তুলে দেওয়া হলো :  

কুড়িগ্রামবাসী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী ও সুধীজন,

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা নিয়ে সৃষ্ট সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় পরিবেশিত ও প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে আমার অবস্থান এবং কুড়িগ্রাম জেলায় দু’বছর কর্মকালে আমার কতিপয় গৃহীত উদ্যোগ অবহিত করছি। গত ১৩ মার্চ ২০২০ দিবাগত রাতে নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় কুড়িগ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাহিদার  প্রেক্ষিতে ৬ জন পুলিশ, ৫ জন আনসার এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টরসহ ৩ জন এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আমি পরদিন সকালে ১৪ মার্চ ২০২০ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আদেশের বিষয়টি অবহিত হই। সংশ্লিষ্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই। তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে-মর্মে আমাকে অবহিত করেন। অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এ বিষয়ে আমাকে দায়ী করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও পরিবেশিত হচ্ছে তাতে আমি প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত। উল্লেখ্য, অভিযান পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষাকৃত অনেক নবীন ও যেহেতু আদালত কিছু বিধিবিধান এবং পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেহেতু উক্ত বিধিবিধান এবং পদ্ধতি প্রয়োগে অনিচ্ছাকৃত ভুল হতেই পারে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের  প্রেক্ষিতে আপিল মঞ্জুর করে এক দিন পর অর্থাৎ ১৫ মার্চ পূর্বাহ্নে আরিফুল ইসলাম রিগানকে জামিন দেওয়া হয়। নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় অভিযানটি পরিচালিত হয়, যাতে আমার সামান্যতম কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না। কিন্তু আমাকে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে এবং হস্তক্ষেপের বিষয়টি উল্লেখ করে নিষ্ঠুরভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে। অভিযান পরিচালনাকালে যদি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কোনো পদ্ধতিগত ভুল করেও থাকে, সেটির দায়ভার কি সরাসরি আমার ওপর বর্তায়? মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং সবার প্রতি বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ রইল...।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে ধরে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। এ সময় তার বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সরকার কুড়িগ্রাম থেকে তাকে প্রত্যাহার করেছে এবং জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads