গত তিন দিনে প্রতিদিনই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল প্রতি কেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। এর আগে শুক্রবার দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বৃহস্পতিবার ১০০ থেকে ১২০ টাকা ও বুধবার বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।
দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে তালমিলিয়ে বাড়ছে চীন ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা বড় পেঁয়াজের দামও। যে পেঁয়াজ তিন দিন আগে ৪০ টাকায় নেমেছিল, তা আবার ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। একইভাবে বেড়েছে পাতাসহ দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দামও। গত সপ্তাহে ৬০ টাকার নিচে থাকা এ পেঁয়াজের দাম গতকাল ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে আবারো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই আবার টিসিবির ট্রাকসেলে পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছেন। প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে খোলাবাজারে ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, শনিবার সকালে পাইকারিতে প্রতি কেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ১৬৬ থেকে ১৭৮ টাকা পর্যন্ত ওঠে। মানে কিছুটা কমতি অথবা আকারে ছোটগুলো ১৬২ টাকা কেজি। এরপর পরিবহন ভাড়া দিয়ে সেসব পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরায়।
খোঁজ নিলে রাজধানীর সবচেয়ে বড় কৃষিপণ্যের বাজার শ্যামবাজারের আমদানিকারকদের নেতা মো. মাজেদ বলেন, দেশি পেঁয়াজ নেই বলে দাম বাড়ছে। কারণ দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ শেষ। চীন থেকেও পেঁয়াজ আসছে না।
তিনি বলেন, এখন নতুন পেঁয়াজ (ফেব্রুয়ারির প্রধান মৌসুমের পেঁয়াজ) আসা পর্যন্ত সমস্যা হবে। দাম বাড়বে। ওই পেঁয়াজ এলে এ সংকট কেটে যাবে।
সেপ্টেম্বরে ভারত সরকার হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে প্রতিদিনের রান্নায় বহুল ব্যবহূত এই সামগ্রীর দাম বাংলাদেশের বাজারে আড়াইশ টাকায় পৌঁছায়, যার নজির অতীতে আর নেই। এরপর পেঁয়াজ উড়োজাহাজে উড়ে আসে, জাহাজে ভেসে আসে। তবে সহসা কমেনি দাম। শেষ ডিসেম্বরের শুরুতে দেশি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করে। এরপর থেকে কমছিল পেঁয়াজের ঝাঁজ।
এদিকে টিসিবির তথ্য বলছে, বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম এক বছরের ব্যবধানে ৫৩৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এ সময় দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কারণ গত সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে ছিল।





