ইংরেজি ভাষার ব্যানার-বিলবোর্ড আর সাইনবোর্ডে ছেয়ে আছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট ও বিপণিবিতান। এসব উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে বছরের পর বছর ধরেই ঝুলছে ইংরেজি হরফের সাইনবোর্ড ব্যানার।
আদালতের আদেশ মানতে গত বছরের জানুয়ারি মাসে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ইংরেজির বদলে বাংলা ভাষা ব্যবহারে সাত দিন সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সময় গড়িয়ে বছর পার হলেও সবকিছুই রয়ে গেছে আগের মতোই।
মাঝখানে একটি বছর গড়িয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিএনসিসি। ফেব্রুয়ারি সামনে রেখে তারা আবার নড়েচড়ে বসছে। আবার নেমেছে অভিযানে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ভাষার ব্যানার-বিলবোর্ড অপসারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত বছরের জানুয়ারিতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রথম অনুরোধ করেছিল ডিএনসিসি। সেখানে তারা ব্যানার, নামফলক, সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড বাংলায় লেখার অনুরোধ জানায়। এতে দূতাবাস, বিদেশি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাদে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের ব্যানার, সাইনবোর্ড, নামফলকও বিলবোর্ড বাংলা ভাষায় লেখার কথা বলা হয়। পরিবর্তনের এ কাজের জন্য তারা সময় পায় সাত দিন। তা বাস্তবায়িত না হলে আইনগত ব্যবস্থার হুশিয়ারিও দিয়েছিল ডিএনসিসি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনোরকমের আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।
ডিএনসিসির গণবিজ্ঞপ্তি মেনে নেওয়া হয়েছে, এমন নমুনা তেমন একটা নেই। তারা কিছু অভিযান চালালেও তেমন সাফল্য আসেনি। ফলে উচ্চ আদালতের আদেশ আর বাস্তবায়িত হয়নি। ডিএনসিসি কারো বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়নি। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত বছর জানুয়ারিতে গণবিজ্ঞপ্তিটি দেওয়ার পর কিছু প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে বিদেশি ভাষার ব্যানার, সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলে।
ওই সময় তারা মাইকিং করেও নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিল। এরপর গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ডিএনসিসির অভিযানে প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়।
অভিযানে বছর পার : উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে নতুন বছরে আবার ব্যানার-বিলবোর্ড সরাতে অভিযানে নেমেছে ডিএনসিসি। গত সপ্তাহে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে বনানীতে অভিযান পরিচালিত হয়। সাইনবোর্ড বাংলা ভাষায় না লেখার অভিযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায় তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কেউ কেউ আবার অভিযানের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাইনবোর্ড অপসারণ করে।
এবারের অভিযান প্রসঙ্গে সাজিদ আনোয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে গুলশানের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে ব্যানার, সাইনবোর্ড প্রতিস্থাপন করেছে। আমাদের আহ্বানে সবাই সাড়া না দেওয়ায় আমরা অভিযান চালাই।’
দীর্ঘদিন পর আবার অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযান একেবারেই হয়নি, এটা ঠিক নয়। অন্য অভিযানের সময়ও এ বিষয়টি দেখা হয়েছে। এখন আবার শুধু এ বিষয়েই আমরা মাঠে নেমেছি।’ অভিযান চলবে জানিয়ে এ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘মানুষ এ বিষয়টি বুঝলেও বিভিন্ন কারণে উদ্যোগের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী কিছু দিনের মধ্যেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করবেন।’
দেশের সচেতন নাগরিকরাও চান যে ভাষার জন্য এ জাতির এত বড় আত্মত্যাগ সে ভাষাকে কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন সচেতন নাগরিকদের কাজ নয়। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে আসলেই শুধু বাংলা ভাষার বিষয়টি সামনে আসবে এরপর আবার ভুলে যাওয়া। এটি বাংলাভাষী হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।





