প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেওয়ায় খুন হন গার্মেন্টস কর্মী হাসনা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

প্রেমিককে বিয়ের চাপ দেওয়ায় খুন হন গার্মেন্টস কর্মী হাসনা

  • গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

প্রেমিককে বিয়ের জন্য চাপাচাপি করার কারণে ঢাকা সাভারের গার্মেন্টস কর্মী হাসনা বেগমকে (৩৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রেমিক আলমাছ বেপারী (২৭)। আলমাছ গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাজী গফুর মন্ডলের পাড়া গ্রামের মাহাম বেপারীর ছেলে।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর হত্যাকারীকে আটক করে খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। গত শুক্রবার বিকেলে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট লাবনী আক্তারের কাছে ১৬৪ ধারায় হাসনা বেগমকে হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রেমিক আলমাছ বেপারী।

গত ৯ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের হাবিল মন্ডলের পাড়ার গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে গার্মেন্টকর্মী হাসনা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি রংপুর জেলার বদরগঞ্জের মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও সাভারের আল মুসলিম গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নিহত হাসনা বেগমের ছেলে হাসান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

জবানবন্দিতে  আলমাছ বেপারী জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৩ বছর আগে তিন সন্তানের জননী হাসনা বেগমের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। তিন বছরের মধ্যে তারা একাধিকবার দেখা করে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি হাসনা বেগম আলমাছকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তার ঘরে স্ত্রী-সন্তানের কথা চিন্তা করে হাসনার প্রস্তাবে রাজি হননি আলমাছ। বিভিন্নভাবে হাসনাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও সে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখে। এ অবস্থায় চাপ থেকে বাঁচতে হাসনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। যার অংশ হিসেবে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাসনার গার্মেন্টসের কাজ শেষে বিকেলে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গোয়ালন্দে নিয়ে আসে। ওই দিন রাতে তারা গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে এসে পায়ে হেঁটে উজানচর হাবিল মন্ডলের পাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে হাসনার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশটি রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আলমাছের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার আলমাছকে তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেয়া হয়। আদালতে আলমাছ হাসনা বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবাননন্দি দেয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads