শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে খুজিউরা গ্রামে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে যাওয়া স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে দ্বিতীয় স্বামী খুন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত কালু মফিজুলকে আটক করেছে পুলিশ । গতকাল সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে খুজিউরা গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের কন্যা শহিদার (২৭) বিয়ে হয় পৌর শহরের গড়কান্দা মহল্লার আমির হোসেনের পুত্র কালু মফিজুলের (৩৫)। কালু পেশায় একজন রিকশাচালক। সংসার জীবনে তাদের ময়না নামে ১১ বছরের একজন কন্যা ও সজীব নামে ৬ বছরের একজন পুত্র রয়েছে। কালু বছরের প্রায় বেশিরভাগ সময় ঢাকায় মানিক নগর বস্তিতে থেকে রিকশা চালাতো। এ সময় তার পরিচয় হয় আরেক রিকশা চালক একই উপজেলার কোন্নগর গ্রামের আরমান আলীর পুত্র বাবুলের (৩৫)। বাবুলও বিবাহিত এবং দু’ সন্তানের জনক। দু’জনের মাঝে গড়ে উঠে সখ্যতা। মাঝে মাঝেই বাবুল কালুর সাথে কালুর বাড়িতে বেড়াতে আসতো। এই সুযোগে বাবুলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে কালুর স্ত্রী শহিদার। প্রায় ১ মাস আগে শহিদা প্রথম স্বামী কালুকে তালাক দিয়ে বাবুলকে বিয়ে করে। সন্তানদের কালুর বাড়িতে রেখে বসবাস শুরু করে খুজিউরা গ্রামের মামা মোস্তফার বাড়িতে।
২৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার দিবাগত রাতে ক্ষুব্ধ কালু স্ত্রী শহিদাকে খুন করার উদ্দেশ্যে শহিদার বাড়ির ঝোঁপে ওৎ পেতে থাকে। রাত দেড়টার দিকে শহিদা ও দ্বিতীয় স্বামী বাবুল প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে, কালু স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। এ সময় দ্বিতীয় স্বামী বাবুল তাকে রক্ষা করতে এলে সে বাবুলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। স্ত্রী শহিদা কালুকে গলায় ঝাপটে ধরে চিৎকার শুরু করলে, আশেপাশের লোকজন কালুকে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেয় এবং বাবুলকে নিয়ে হাসপাতালের পথে রওয়ানা দেয়। পথেই বাবুল মারা যায়। পরে পুলিশ কালুকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে বাবুলের ভাই বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নালিতাবাড়ী থানার ইনচার্জ(ওসি) আবুল খায়ের।