সারা দেশ

পূর্বধলায় সার্ভেয়ারের ওপর গ্রামবাসীর হামলার ঘটনায় মামলা

  • প্রকাশিত ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিশকাকুনী ইউনিয়নের নৈগাঁও গ্রামে (৮ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বিকালে খাস জমি চিহ্নিত করার সময় গ্রামবাসীর সাথে উপজেলা সার্ভেয়ারের কথক কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।  এ ঘটনাটি উপজেলা সার্ভেয়ার হাতাহাতির ভিডিও ধারণ করার সময় উপজেলা সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম আহত হয়।  সার্ভেয়ারের ওপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সার্ভেয়ার মোঃ হাদিউল ইসলাম নিজে বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে পূ্র্বধলা থানায় একটি মামলা করেন।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে তিনজনকে আটক করেছে। 

সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় পূ্র্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুদীপ্তা দেবী।  আহত সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম চোখের নিচের ছাড়াও মাথায় আঘাতেরও অভিযোগ করেন।  তবে এবিষয়ে ডাঃ সুদীপ্তা দেবী বলেন মাথায় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবে বাম চোখের নিচে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলামকে বারবার যোগাযোগ করে খোঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজনীন আখতার বলেন, একটি খাস হালটে ঘর উঠানোর অভিযোগে উপজেলা সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলামকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।  বৃহস্পতিবার বিকেলে সে মাঠপর্যায়ে গেলে তার ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  পূর্বধলা থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় উপজেলা সার্ভেয়ার বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।  ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, উপজেলার নৈগাঁও গ্রামের ইমাম হোসেন ও শাহিন এর বাড়ির মাঝখান দিয়ে ১২-১৩ ফুটের একটি হালট রয়েছে।  স্থানীয় নৈগাঁও গ্রামের ভূমিহীন ও বিধবা ছুলেমা খাতুন (৫৫) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে ইমাম হোসেন ও শাহিন এর যাতায়াতের জন্য রাস্তা রেখে ঘর নির্মাণ শুরু করে।  যখন সরকারের প্রয়োজন হবে তখন ছেড়ে দেওয়ার শর্তে দোকান ঘর নির্মাণ করতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আল আমিন এর কাছে আবেদন করেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া ও সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম হালটে উপস্থিত হয়ে মাপামাপি শুরু করে।  স্থানীয় লোকজন জানতে চাইলে একপর্যায়ে বাকবিতন্ডা শুরু হয়।  এসময় সার্ভেয়ার হাদিউল ইসলাম তার মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে থাকে।  স্থানীয়রা মোবাইল ছিনিয়ে নিতে চাইলে হাতাহাতির এক পর্যায়ে হাতের কনুই লেগে মুখে থাকা চশমার ফ্রেম দিয়ে কেটে যায় এবং রক্তাক্ত যখম হয়।  তাৎক্ষণিক সার্ভেয়ার হাদিউল এসিল্যান্ডকে বিষয়টি অবগত করলে এসিল্যান্ড নাজনীন আখতার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads