সারা দেশ

পুঞ্জীভূত সমস্যা,ডাক্তার ও কর্মচারী শূন্যতায় সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

  • ''
  • প্রকাশিত ১৫ মে, ২০২৪

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

পুঞ্জীভূত সমস্যা,ডাক্তার ও কর্মচারী শূন্যতায় সুনামগঞ্জের ২৫০শয্যার হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেই অসুস্থ হয়ে রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ। হাসপাতালটিতে সর্দি-কাশির চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া জটিল রোগের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্মরতরা।

আর গ্রামীণ কমিউনিটি সেন্টারের মত জটিল রোগী হলেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিলেটে রেফার্ড করছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবী করছেন সীমিত জনবল দিয়েই সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল,ভবনের প্রধান গেটেই রোগীর ভিড়, অনেকে জানতে চাচ্ছেন আটতলা ভবনের কোথায় গিয়ে ডাক্তার দেখাবেন তিনি, কিন্তু রোগীদের এই নির্দেশনা জানানোরও কাউকে দেখা যায় নি।

রফিকুল ইসলাম নামের গৌরারংয়ের মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি জানালেন,আটতলা ভবনের এই হাসপাতাল ভবনে কোন ফ্রন্ট ডেস্ক বা তথ্য কেন্দ্র নেই। হাসপাতালে এখানে বেশির ভাগ সময়ই দালাল থাকে। এই দালালরা সুযোগ পেলেই বাইরের ক্লিনিকে রোগী পাঠিয়ে দেয়। ডাক্তার শূন্যতা এবং এক্সরে না হবার বিষয়টি আরও বেশি কাজে লাগায় এরা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,২০০৯ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া এই হাসপাতালে জনবল সংকট লেগেই আছে। রেডিওলজিস্টের পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালে এক্সরে হচ্ছে না ছয় মাস হয়। ১৪ মে সোমবার থেকে আলট্রাসনোগ্রাফি ও আলট্রাসনোগ্রামও হচ্ছে না জানালেন হাসপাতালের দায়িত্বশীল চিকিৎসকরা। বিশেষ করে ডাক্তার ও টেকনোলজিস্ট শূন্যতায় ভূগছে বছরের পর বছর। বর্তমানে হাসপাতালে অর্ধেকের বেশি ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে।

ডাক্তারের ৬৬ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩০ জন। পদশূন্য রয়েছে ৩৬ টি। এরমধ্যে ২৩টি কনসালটেন্ট পদের ১৩ টিই শূন্য। জরুরি শূন্যপদ গুলোর মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী),জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী), সিনিয়র কনাসালটেন্ট (চক্ষু)জুনিয়র কনসালটেন্ট(চক্ষু),সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি),সিনিয়র কনাসালটেন্ট (অ্যানেসথেশিয়া),সিনিয়র কনসালটেন্ট(গাইনী), সিনিয়র কনসালটেন্ট(কার্ডিওলজি),সিনিয়র কনাসালটেন্ট(ডেন্টাল),জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি)। মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ৩২টি পদের মধ্যে ১৭ টি শূন্য। নার্সের ২৫৪ টি পদের মধ্যে ১৯৭ জন আছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মী ২৪ জনের পদ থাকলেও আছেন ১৩ জন। হাসপাতালের ওয়ার্ডের রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য অ্যাসিটেন্ট রেজিস্টার ও আইএমও(ইনডোর মেডিকেল অফিসার) থাকা জরুরি। এখানে সেই পদগুলোও শূন্য।

খোঁজ নিয়ে আরও জানাযায়,আলট্রাসনো- গ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হযরত আলী গত রবিবার(১২ মে) শেষ অফিস করেছেন। তাকে নারায়ণগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।

হাসপাতালের একজন সিনিয়র ডাক্তার বললেন, এই হাসপাতালে এখন আর সার্জারীর কোন অপারেশন হয় না বললেই চলে। বুকে ব্যাথা নিয়েও কেউ আসলে সঙ্গে সঙ্গে আমরা রেফার্ড করে দেই।হাসপাতালে সর্দি,কাশি,জ্বর,পেটের পীড়া ছাড়া জটিল রোগের চিকিৎসার ঝুঁকি নেন না চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ জানান,কেউ চোখের সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা চিকিৎসা দিতে পারি না, বাধ্য হয়ে অনেক সময় ওয়েজখালী ভার্ড এ যাওয়ার কথা বলতে হয়। কিন্তু রিক্সা থেকে পড়ে কেউ গুরুতর আহত হলে আমাদের সিলেটে রেফার্ড করতে হয়। অনেকে বিরক্ত হন। কিন্তু আমরা তো নিরূপায়। কিছুই করার থাকে না। আমাদের যাবার সামর্থ্য নেই তাদেরকে এখানে রেখেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখানে কার্ডিওলজিস্ট এবং করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) নেই। সামান্য বুকের ব্যাথা নিয়ে আসলে বলতে হয় দ্রুত সিলেটে যান।

অর্থোপেডিক্স এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিপূল ঘোষ জানান,জেলা সদরের এই হাসপাতালে রেডিওলজিস্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় কাজের পরিবেশ পাচ্ছি না তবুও আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সাধ্যমতই।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম বলেন,গড়ে প্রতিদিন চারশ রোগীকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়। সকল সমস্যার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই ডাক্তারের শূণ্যপদ পূরণসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করে সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশা করছি। তিনি আরও জানান,স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ সাদিকও হাসপাতালের সকল সমস্যার তথ্যাদি সংগ্রহ করেছেন। তিনিও চেষ্টা করছেন।

সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান,সদর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা গুলো নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি আর সারাদেশেই একই ধরনের সংকট রয়েছে। কম সময়ে সবকিছুর সমাধান করতে না পারলেও আমি চেষ্টা করছি। একজন তত্ত্বাবধায়ক ওখানে যোগদান করেছেন। হাসপাতালে যারা আছেন তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি,সার্ভিস উন্নত করার জন্য তারাও চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads