সারা দেশ

পীরগঞ্জে ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে অবৈধ ইটভাটা

  • ''
  • প্রকাশিত ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে ৫৪ টি ইটভাটা। অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। বরং ইটের মৌসুম আসাতে ভাটাগুলোতে কাজ চলছে জোরেশোরেই প্রতি বছর বাড়ছে ভাটার সংখ্যা। আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে।

ভাটার অনেক মালিক জানায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম। অবৈধ এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। কয়লার দাম বাড়তি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারছে লাকড়ি-কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে ইট। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।

উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ১ উপজেলায় রয়েছে মোট ৫৪টি ইটভাটা রয়েছে। ৫৪ টি ইটভাটার মধ্যে পীরগঞ্জে স্থায়ী চিমনির সংখ্যা ১৬ টি বাকীগুলো অস্থায়ী চিমনির সাহায্যে ইট পোড়াচ্ছে। এসব ইটভাটাগুলোর নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। উপজেলার ৫৪ টি ইট ভাটার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ১৯টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

এ সব অবৈধ ইট ভাটায় প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় দিন দিন যোগ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন নতুন-নতুন ইট ভাটা। এ সব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ ফলে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা বলে জানায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপজেলার ৫৪ টি ইট ভাটার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ১৯টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ভাটার কালো ধোঁয়ায় শ্বাস নিতে সমস্যা হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

লাইসেন্সবিহীন ইটভাটাগুলোতে চারপাশে মজুত করে রাখা হয়েছে কয়েকশ মন লাকড়ি। ভাটাতে কাঠ পোড়ানোর ফলে চিমনি দিয়ে প্রচুর বেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আর সেই ধোঁয়া স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বসতি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

অপর দিকে এসব ইটভাটাতে ৩ থেকে ৪ ধরনের ফরমা ব্যবহার করা হয়। এতে ইটের সাইজ ছোট-বড় করে প্রতিনিয়তই ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়ে থাকে।কুমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্সও নেয় না।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, পীরগঞ্জে এ বছর ৩-৪ টি ইট ভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে, বাকী ইট ভাটায় কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরোও জানান গত বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫’শ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ভাটা গুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে দৃশ্যমান কিছু দেখি নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান- ইটভাটাসমুহ দেখভাল করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এ সব অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সুপারিশ করা হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, পীরগঞ্জে ৪৯টি ইটভাটায় ইট প্রস্তুত ও বিপনন করছে। যার একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ ছাড়পত্র নেই। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি অবগত স্থানীয় প্রশাসন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধেরও বিধান রয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads