পাহাড়ী ক্যাম্পাসে লাল সাইকেলের রাজত্ব

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

পাহাড়ী ক্যাম্পাসে লাল সাইকেলের রাজত্ব

  • প্রকাশিত ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে কোলাহলমুক্ত পাহাড় ঘেরা সবুজের নগরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।  যে এ ক্যাম্পাসে একবার এসেছে সেই এ ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়েছে। এ ক্যাম্পাসের প্রেমে পড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসে হাজারো পর্যটক।  শুধু দেশি নয় বিদেশি পর্যটকরাও এ ক্যাম্পাস দেখতে আসে। অনেকেই ছুটির দিনগুলো কাটাতে নগরজীবন ছেড়ে চলে আসেনএকটুবিশুদ্ধ অক্সিজেনের খোঁজে। আর এ সবুজ প্রাঙ্গনের সৌন্দর্য ও পরিবেশরক্ষাকরতে যোগহয়েছেনতুন উদ্যোগ।  পরিবেশবান্ধবএকঝাঁকলালসাইকেল।

লাল সাইকেল 'জোবাইক' একটি প্রতিষ্ঠানের হলেও এটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া হাজারো শিক্ষার্থীর আবেগকে জড়ো করেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস, আড্ডা-গান, ল্যাব, পড়াশোনা কিংবা পরীক্ষার মাঝে একটু সময় পেলেই দল বেঁধে বন্ধুদের নিয়ে অথবা প্রেয়সীর সঙ্গে অজানার দেশে হারিয়ে যায় লাল সাইকেল নিয়ে। হয়ত কোনো একসময় এই কল্পনার দেশে হারিয়ে যাওয়া হাজারো গল্প, কবিতা, গান বা উপন্যাস তৈরির উপাদান হবে।

২১০০ একর জুড়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। হল থেকে অনুষদগুলোর দূরত্ব অনেক বেশি। আবার একটি অনুষদ থেকে আরেকটি অনুষদের দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে প্রায় সময় পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না রিক্সা কিংবা অন্যান্য যানবাহন। যার কারণে প্রায় সময় অনেকের গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস, পরীক্ষায় অংশগ্রহণে দেরি হতে দেখা যায়। এসব বিড়ম্বনা মুক্ত করতে চবিতে চালু হয়েছে মুঠোফোনভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং সেবা 'জোবাইক'।

জোবাইক সেবাগ্রহনের পদ্ধতি হলো প্রথমে মোবাইলে গুগল প্লে­স্টোর থেকে 'জোবাইক' অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। এরপর নিজের মোবাইল নাম্বার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দিয়ে ভেরিফিকেশন করলেই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে যাবে। প্রতি ৫ মিনিটে খরচ কাটবে ৩ টাকা। টাকা আগেই আউটলেট থেকে রিচার্জ করতে হবে। চবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে একটি আউটলেট ও চারটি রিচার্জ পয়েন্ট আছে। আউটলেটটি ক্যাম্পাসের শহিদ মিনার সংলগ্ন লেডিস ঝুপড়িতে অবস্থিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮০টি সাইকেল রয়েছে।  সাইকেলগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গেট, অনুষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থাকে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, সোহরাওয়ার্দী মোড়, ২ নং গেট, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্রশাসনিক ভবন, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, জীব বিজ্ঞান অনুষদ, বন ও পরিবেশ বিদ্যা ইনস্টিটিউট, দোলা স্মরণী, প্রীতিলতা হল ও শামসুর নাহার হল সংলগ্ন 'জোবাইক'র পার্কিং জোন তৈরিকরারজন্য কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছামতোএকটাসাইকেলবারকোড স্ক্যানিংয়েরমাধ্যমে আনলককরেক্যাম্পাসেরভিতরে জোবাইকেরএরিয়ারভিতরে যেকোনোজায়গায় যেতেপারেনপ্রতি ৫ মিনিট ৩ টাকাখরচে। স্ক্যানিংয়েরমাধ্যমে লক খোলার সঙ্গে সঙ্গে সময় গণনা শুরু হয়। নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে স্ট্যান্ড করে লক করার সঙ্গে সঙ্গে আবার সময় গণনা শেষ হয়। সাইকেলটিতে রয়েছে একটি সোলার প্যানেল ও জিপিএস সিস্টেম। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী খুব সহজেই ক্যাম্পাসের কোথায় সাইকেল আছে অ্যাপের সাহায্যে খুঁজে পায়।

জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী রেজা বলেন, বাইসাইকেলে ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তি ব্যবহার করে একই বাইসাইকেল একাধিক ব্যক্তিকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে জোবাইক। একই সঙ্গে অল্প দূরত্বে যাতায়াতের জন্য এটি বাংলাদেশে একটি বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার সূচনা করেছে।  যা পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প খরচেএবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।

দেশের প্রথম বাইসাইকেল শেয়ারিংয়ের এ উদ্যোগ গত বছরের (২০১৮ সাল) ১৮ জুন কক্সবাজারে এবং ১১ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুকরে। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সেবা চালু আছে। পরে সিলেটের হয়রত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ওরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সেবা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

জোবাইক সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক জেবুন নাহার শারমিন বলেন, ক্যাম্পাস জীবন শুরু হওয়ার পর থেকেই মনে মনে যে জিনিসটার অভাব অনুভব করতাম তাহল একটি দ্বিচক্র যান। ভাবতাম,ইশ! এত সুন্দর মোহময় ক্যাম্পাসটা এই বাহন দিয়েই প্রতিদিন ঘুরে দেখা যেতো যদি।ডিপার্টমেন্টেও যেতে পারতাম সহজেই। একঢিলে দুই পাখি মারা যেতো। কিন্তু হায়! বাহনটি কেনাও হলনা সাধও পূরণ হল না। কিন্তু ক্যাম্পাস ছাড়ার শেষ মুহূর্তেই জানলাম জোবাইকের কথা। সবার মধ্যেই জোবাইক নিয়ে উত্তেজনা, উচ্ছ্বাস আসলেই দেখার মত।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রাকিব বলেন, জোবাইক বড় ক্যাম্পাসের জন্য বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি যথোপযুক্ত যানবাহন। যারা হলে কিংবা ক্যাম্পাসের আশেপাশে তারা এই সুবিধা নিতে পারে যেকোনো সময়।  যা খুবই সুন্দর, স্বাস্থ্যকর এবং কম খরচে পাওয়া যায়।

জোবাইকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লীড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে ৮০ টি জোবাইক রয়েছে। আস্তে আস্তে সাইকেল সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এ পর্যন্ত কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে অনেকে ঝুড়ির অপব্যবহার করেছে। আমরা ঝুড়ি দিয়েছি বইপত্র রাখার জন্য কিন্তু কেউ কেউ সেটা অন্য কাজে ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে আমাদের এরিয়ার বাইরে সাইকেল নিয়ে যাচ্ছেন।

লেখক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুবাইর উদ্দিন

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads