জাতীয়

পার্সেল পাঠাতে লাগবে এনআইডি নাম্বার

সার্ভার অ্যাক্সেস পাচ্ছে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে পার্সেল সেবা গ্রহীতাকে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নাম্বার ব্যবহার করতে হবে। এজন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনআইডি সার্ভারে প্রবেশের (অ্যাক্সেস) সুযোগ করে দিতে চায়। বিষয়টি নিয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে একটি সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (ডিএনসি ও ডিআইডি) বিভিন্ন অভিযানে দেখা যায়- কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর মাধ্যমে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো বাংলাদেশকে একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। পার্সেল মাধ্যমে এসব মাদক একস্থান থেকে অন্যস্থানে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে পার্সেলে মাদকদ্রব্যের অস্তিত্ব চিহ্নিত করলেও গ্রাহকের ভুয়া ঠিকানার কারণে সংশ্লিষ্টদের অস্তিত্ব খুঁজে পায় না গোয়েন্দারা। এতে উদ্ধারকৃত মাদক নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষের শুধু মাদক রিকোভারি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না।  এ বিষয়ে ডিএনসির সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) রামেশ্বর দাস বলেছেন, গত ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪টি চোরাচালান থেকে অন্তত ২১ হাজার ৬১৪টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে ডিএনসি কর্মকর্তারা। এগুলো কার্গো বিমানযোগে সৌদি আরব ও আমেরিকার উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় নয়টি মামলা ও চারটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গোতে করে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর জন্য ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট মাধ্যমে বুক করা প্যাকেট থেকে প্রায় সাড়ে ১২ দশমিক ৩২ কেজি অ্যাম্ফিটামিন উদ্ধার করেছিল।

রামেশ্বর দাস জানান, বাংলাদেশে কোনো মাদক উৎপাদন হয় না। সিন্ডিকেটগুলো কুরিয়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন উপায়ে ভারত থেকে অ্যাম্ফিটামিন এবং মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রেরকের ঠিকানা জাল বলে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় না। এ কারণে আমরা কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর জন্য এনআইডি সার্ভার অ্যাক্সেসের সুবিধা করে দিচ্ছি, যাতে তারা কোনো পার্সেল প্যাকেজ পাওয়ার আগে প্রেরকের বিশদ এবং ফটোগ্রাফ পরীক্ষা করতে পারে।

ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা এয়ারপোর্ট সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ফারুক আহমেদ বলেন, কোনো এজেন্ট জেনেশুনে ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, এটি আমি বিশ্বাস করি না। এজেন্টদের অগোচরে এটা হতে পারে। কারণ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা শুধু প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করে থাকে এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের সামনে প্যাকেটগুলো খুলে পরীক্ষা করা হয়।

বাংলাদেশের কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান পুলক বলেন, এনআইডির আওতায় আসার আগে দেশের সব কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। কারণ দেশে প্রায় ৮০০ কুরিয়ার সার্ভিস অপারেটর রয়েছে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক কুরিয়ার আমাদের সমিতিতে নিবন্ধিত। আর ১৫০টি কুরিয়ারের মধ্যে মাত্র ৩০টি সরকারি নিবন্ধন করেছে। সুতরাং এই কুরিয়ারগুলো লাইসেন্স ছাড়াই কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক বলে তিনি জানান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আহসানুল জব্বার বলেন, আমরা দেখেছি যে কুরিয়ারগুলো ইয়াবাসহ মাদক পাচারের জন্য ব্যবহূত হচ্ছে যা উদ্বেগজনক।

আমরা এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়েছি কুরিয়ার সার্ভিসের সব অফিস সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রেরকদের এনআইডিসহ ফোন নম্বর যাচাই করবে এবং যখনই কোনো সন্দেহজনক বিষয় নজরে আসবে, সাথে সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য জানাবে।

এনআইডি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার দেশের নিরাপত্তার জন্য এনআইডি সার্ভারের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। তবে এর সুরক্ষা হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন আসার পর কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কতটা তথ্য অ্যাক্সেসের প্রয়োজন তা যাচাই করব। তারপর আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে আমরা ইতিবাচক এবং যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads