নানা আয়োজনে গতকাল রোববার পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে ছিল বর্ণিল আয়োজন। নেচে গেয়ে নানা সাজে সজ্জিত হয়ে পাহাড়ের লোকজন দিনটি পালন করে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
খাগড়াছড়ি : সকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বর্ষপূর্তির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজাতীয় শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে শান্তিচুক্তি হয়েছে বলেই এখানে সম্প্রীতি ও উন্নয়ন হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারকে আবারো নির্বাচিত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার শাপলা চত্বর হয়ে টাউন হল প্রাঙ্গণে মিলিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ ডিসপ্লের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক শহীদুল হক, পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
র্যালিতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালিরা নিজ নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে অংশ নেন। জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে যোগ দেন। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগও চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তিতে র্যালি করেছে।
রাঙামাটি : সকালে রাঙামাটি জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন।
রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মোহাম্মদ রেদওয়ানুল ইসলাম, পরিষদ সদস্য জানে আলম, সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার, রাঙামাটি প্রেস সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ছাদেক আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা।
সভায় ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে অনেক ধারা বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে হচ্ছে। এর আগে জেলা পরিষদ চত্বরে ফেস্টুন সম্বলিত বেলুন উড়িয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২১ বছর পূর্তি পালনে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চুক্তির ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনা রিজিয়নের আয়োজনে রাঙামাটি চিংহ্লামং মারি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় সম্প্রীতি কনসার্ট।
বান্দরবান : বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। এ দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ। এতে সহায়তা করে সেনা রিজিয়ন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণ হতে বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে রাজার মাঠে শেষ হয়। এরপর শুরু আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল এসএম আবদুল্লাহ পিএসসি, বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার জাকের হোসেন মজুমদার, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কাজলকান্তি দাশ, পৌরসভা মেয়র মো. ইসলাম বেবী ও জেলা সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা।





