পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার টেপুরগাড়ী কাউয়ামারী সার্বজনিন হরি ও দূর্গা মন্দিরের উপর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ গাছ ধসে পড়ে মন্দির বিলিন হওয়ায় গত দুই সপ্তাহ থেকে স্থানীয় হিন্দু ধর্মালম্বী জনসাধারণ পূজা অর্চনা করতে পারছেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দমকল বাহিনী জানায়, মন্দির সংলগ্ন বহু বছরের পুরাতন পাকুড়ি গাছের ভিতরের শুকনো অংশে (২৪ মার্চ) অগ্নিকান্ড ঘটে। দমকল বাহিনী খবর পেয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পরই গাছটির অর্ধাংশ মন্দিরের উপর ভেঙে পড়ে। মুহুর্তেই মন্দিরের ঘরটি ভেঙ্গে মাটির সাথে মিলে যায়। এসময় উপস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
টেপুরগাড়ী কাউয়ামারী সার্বজনিন হরি ও দূর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায় জানান, ‘পাকুড়ি গাছটি বহু বছর আগের পুরাতন। গাছটির বয়স কেউ সঠিকভাবে বলতে পারেন না। বর্তমান শুস্ক মৌসুমে বাঁশ- ঝাড়ের শুকনো পাতায় বা গাছটির গোড়ায় কেউ হয়ত অসাবধনতা বশতঃ সিগারেট বা বিড়ির আগুন ফেলায় এই অগ্নিকান্ড ঘটেছে। মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ায় আমরা চরম হতাশায় পড়েছি।’
টেপুরগাড়ী কাউয়ামারী সার্বজনিন হরি ও দূর্গা মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শতীষ চন্দ্র রায় ও সম্পাদক সরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘সার্বজনিন হরি ও দূর্গা মন্দিরটিতে আমরা প্রতি বছর দূর্গা পূজা, অষ্ট প্রহরসহ বিভিন্ন পূজার আয়োজন করে আসছি। মন্দিরটিতে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ গাছ পড়ে ভেঙে পড়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি। সকাল- সন্ধায় পূজা অর্চনা বন্ধ রয়েছে। মন্দিরটি নির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম জানান, ‘মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ অপসারণের জন্য মন্দির কমিটিকে নগদ কিছু সহায়তা দেয়া হয়েছে।‘ মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্থের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।’





