পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা রাজধানীতে

প্রতীকী ছবি

জাতীয়

পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা রাজধানীতে

  • ইমরান আলী
  • প্রকাশিত ২৬ মার্চ, ২০২১

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির আগমনকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে পাঁচস্তরের নিরাপত্তায় থাকছে ২০ হাজার র্যাব-পুলিশ সদস্য। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য থাকছে আরো কয়েক হাজার। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর একেবারে শেষ পর্যায়ে আজ বাংলাদেশ সফরে আসছেন তিনি।

র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়ার ডিরেক্টর লে.কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ঢাকায় র্যাবের ৫টি ব্যাটালিয়ন। এই ৫টি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রতিটি সদস্য তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমও পরিচালিত হবে। র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, শুধু ঢাকায় না ঢাকার বাইরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফর করবেন সেই স্থানগুলোতে ইতিমধ্যে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে সেখানেও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সাদা পোশাকেও র্যাবের গোয়েন্দা দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইনভিত্তিক কিছু দেশবিরোধী অপ্রপ্রচার চলছে এগুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যেন এগুলোর সুযোগ নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতা চালাতে না পারে সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ১৭ মার্চ থেকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রাক্কালে তা আরো বাড়ানো হয়েছে। আজ সকালে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ৩২, জাতীয় স্মৃতি সৌধসহ তার রাজধানীর ভেতরে যেসব স্থানে যাওয়ার কথা রয়েছে সেগুলোকে কয়েকস্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ওই সব সড়কের যানচলাচলও বন্ধ থাকবে।

সূত্র জানায়, পোশাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১০/১৫ হাজার সদস্য রাস্তায় থাকবেন। এর বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা, সোয়াট সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। 

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য অতিরিক্ত সদস্যরা কাজ শুরু করেছেন। পাঁচস্তরের নিরপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও নিশ্চিত করেন ওই কর্মকর্তা।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, নিরাপত্তার কোনো ঘাটিতে নেই। কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় এ অতিথিকে ঘিরে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এছাড়া আজ ও কাল শনিবার ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কসমূহে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত এবং কিছু কিছু সময়ের জন্যে বন্ধ থাকবে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামের তীর্থস্থান ঠাকুরবাড়ি যাচ্ছেন ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাল শনিবার তারা গোপালগঞ্জ যাবেন। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর সমাধি ও ঠাকুরবাড়িতে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির আসার খবরে খুশি টুঙ্গিপাড়াবাসীসহ মতুয়া ভক্তরা। তাদের আগামনে জেলায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা গেছে, কালকের সফর উপলক্ষে মোদি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপশি বৃক্ষরোপণ করবেন। মোদিকে স্বাগত জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন বলে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নরেন্দ্র মোদি ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূজা-আর্চনা করে ঠাকুরবাড়ির সদস্য ও অন্য একটি মাঠে মতুয়া নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

তাদের আগমনে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স ও ঠাকুরবাড়ির বিভিন্ন মন্দির সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপশি শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স চত্বরসহ পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

ঠাকুরবাড়ির আশপাশের পুরো এলাকা বাঁশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। মোদিসহ কর্মকর্তাদের বহন করা হেলিকপ্টার নামতে ঠাকুরবাড়ির পাশে তৈরি করা হয়েছে ৪টি হেলিপ্যাড। হেলিপ্যাড থেকে ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার সড়কসহ লিংক রোড ও ঢাকা-খুলনা থেকে ঠাকুরবাড়ি যাওয়া-আসার সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরবাড়িজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাতক্ষীরায় আগমন উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে ইতিমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থেকে শুরু করে পৃথক ৪টি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ধুমঘাট এলাকা ও ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন শ্যামনগরে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ঈশ্বরীপুর।

প্রশাসন সূত্র জানায়, শনিবার হিন্দু সমপ্রদায়ের দেবীর ৫১ শক্তিপীঠের মধ্যে অন্যতম পবিত্র শক্তিপীঠ হিসাবে পরিচিত সুন্দরবন সংলগ্ন ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন। তার আগমনে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মতুয়া সমপ্রদায়ের তীর্থস্থান হিসাবে পরিচিত এই মন্দির দর্শন করতেই নরেন্দ্র মোদি ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী মা কালী মন্দিরের পূজা অর্চনায় যোগ দেবেন। ফলে মতুয়া সমপ্রদায় ও মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় চলছে উৎসবের আমেজ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads