পল্লী সড়ক উন্নয়নে একনেকে উঠছে নতুন তিন প্রকল্প

পল্লী সড়ক উন্নয়নে একনেকে উঠছে নতুন তিন প্রকল্প

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

বাস্তবায়নে ব্যয় ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা

পল্লী সড়ক উন্নয়নে একনেকে উঠছে নতুন তিন প্রকল্প

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১২ মার্চ, ২০১৯

পল্লী এলাকার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর পল্লী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিচ্ছে সরকার। পল্লী এলাকায় শহরের সব ধরনের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের তিন প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ৬ প্রকল্প উপস্থাপন হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি প্রকল্পই পল্লী সড়ক খাতের।

একনেকে উপস্থাপন হতে যাওয়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প হচ্ছে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার)-ইব্রাহীমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, নীলফামারী-ডোমার সড়ক ও বোদা-দেবীগঞ্জ সড়ক (নীলফামারী অংশ) এবং ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প, ও বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল হতে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ কঠিন কিছু নয়। শহরের সেবাগুলো গ্রামে পৌঁছাতে পারলেই এ প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে। পল্লী এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। তবে পল্লী সড়কের উন্নয়নে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। এই তিন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ে অবস্থিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নত করা হবে। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে ভারী যানবাহনের ব্যবহার এবং জনসাধারণের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য পূরণে নীলফামারী- ডোমার সড়ক ও বোদা-দেবীগঞ্জ সড়ক (নীলফামারী অংশ) এবং ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। একনেকের অনুমোদন পেলে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের আওতায় তিনটি সড়কের প্রশস্ততা সাড়ে ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৩ মিটারে উন্নীত করা হবে। সড়কের দুই পাশে দেড় মিটার করে হার্ডশোল্ডার নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রায় দেড় কিলোমিটার বিদ্যমান পেভমেন্ট মজবুতিকরণ, ২০ কিলোমিটারের বেশি বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, ৩ কিলোমিটার নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ, ২ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার বাঁক সরলীকরণ, ২৬ কিলোমিটার সার্ফেসিং, ৩১ দশমিক ২৩ কিলোমিটার হার্ডশোল্ডার নির্মাণ।

এছাড়া ব্যয়সাশ্রয়ী সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নে লক্ষ্যে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার)-ইব্রাহীমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়কটিকে জাতীয় মহাসড়কের উন্নীত করতে ৩১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রস্তাব করা হয়েছে অপর একটি প্রকল্প। বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও সময়সীমা ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সড়কের দুই পাশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাজার ও ব্যবসাকেন্দ্র অবস্থিত। ফলে সড়কটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। সাড়ে ৫ মিটার প্রশস্ত এ সড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস অথবা পণ্যবাহী ভারী ট্রাক পাশাপাশি অতিক্রম করতে সমস্যা হয়। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সড়কটি ৭ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীত করা হবে।

এই তিন প্রকল্প ছাড়াও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শেখ হাসিনা নকশি পল্লি, জামালপুর (প্রথম পর্যায়) এবং লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক তিনটি প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads