সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে। তবে অধিকাংশ কারখানায় পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।
তারা বলছেন, কারখানার পার্শ্ববর্তী এলাকায় শ্রমিকের বাসা নেই। স্বল্প বেতনে সাশ্রয়ী বাসা পেতে তারা কারখানা থেকে দূরে থাকেন। দূর থেকে হেঁটে আসতে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। পথের দূরত্বের কারণে কারখানায় দু-এক মিনিট দেরি হলেই শ্রমিকদের বেতন কাটা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ওএসকে গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত বলেন, কারখানা এলাকায় বাসা ভাড়া বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ শ্রমিকই দূরে থাকেন কম ভাড়ার বাসায়। আগে গণপরিবহনের মাধ্যমে দূরের শ্রমিকরা কারখানায় এসে কাজ করতে পারত; কিন্তু এখন তা বন্ধ। আবার কারখানাগুলো পরিবহন না রাখায় শ্রমিকদের আসা-যাওয়ায় বড় ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। কিছু কারখানা নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করলেও বেশিরভাগ কারখানাই করেনি। অনেকে ভাড়া বাঁচাতে একসঙ্গে ছোট গাড়ি-রিকশায় আসছেন। এতে আরো স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে কোনো শ্রমিক কারখানায় উপস্থিত হতে না পারলে তাকে চাকরিচ্যুতির হুমকি দিচ্ছে, বেতন কাটা হচ্ছে।
শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, লকডাউনে সবকিছু বন্ধ থাকলেও মালিকদের চাপে গার্মেন্ট চালু রেখেছে সরকার। মালিকদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখার কথা বলা হলেও আসলে মালিকরা তা মানছেন না। মঅগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রমিকদের করোনা ভ্যাকসিন ও চাকরির নিরাপত্তা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
বিজিএমইএ বলছে, শিল্পের সব শ্রমিক (কর্মকর্তা-কর্মচারী) ও বিদেশিদের জরুরি ভিত্তিতে করোনার টিকা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, আমরা পোশাক খাতের সব শ্রমিকের জন্য টিকা চেয়েছি। পাশাপাশি এ খাত সংশ্লিষ্ট বিদেশি বায়ারদের জন্যও টিকার কথা বলেছি। আমরা গত মাসে মৌখিকভাবে চেয়েছিলাম, কিন্তু সোমবার চিঠির মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তা এবং বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, সর্বাত্মক বিধিনিষেধ চলছে দেশে। পোশাক কারখানাগুলো কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। আমরা নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে দূরের শ্রমিকদের কারখানায় আনার ব্যবস্থা রেখেছি।
তিনি বলেন, যারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে পারবে না তাদের কারখানা চালু রাখতে পারবে না। আমরা এবার কারখানা এবং কারখানার বাইরে শ্রমিকদের সার্বক্ষণিক মাস্ক পরতে উৎসাহিত করছি। এতে তারাও ইতিবাচক। যদিও কারখানায় এর আগেও কাপড়ের মাস্ক পরে থাকতে হতো। এবার আমরা খুব বেশি সতর্ক আছি শ্রমিকদের নিয়ে। আমরা শারীরিক দূরত্ব মেনেই তাদের কাজে রাখছি। সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা আছে। তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। দুপুরের খাবারের সময়ও একসঙ্গে বসানো হচ্ছে না শ্রমিকদের।
গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই পাল্টে যায়। শত শত বহুজাতিক কোম্পানির শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের শিকার হন। বন্ধ হয়ে যায় হাজারো শিল্প কল-কারখানা। এর ধাক্কা লাগে দেশের রফতানি আয়ে নেতৃত্ব দেয়া পোশাক খাতেও। একের পর এক বাতিল হতে থাকে রফতানি আদেশ। এতে শঙ্কা দেখা দেয় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে এ খাতে জড়িত প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা নিয়ে। এরপর সরকারি সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়ায় পোশাক শিল্প।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১ জুলাই এ দফায় কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে জরুরি সেবাদান ছাড়া সব ধরনের অফিস। পোশাক কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে খোলা রাখা হয়েছে।





