একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, কাহিনীকার ও নির্দেশক আবুল হায়াত। করোনার ধকল কাটিয়ে ফের নাটক পরিচালনায় নামলেন এই গুনীন। ‘কান পেতে রই’ শিরোনামের এ নাটকটি রচনা করেছেন আবুল হায়াত নিজেই। শিগগিরই চ্যানেল আইতে নাটকটি প্রচার হবে। নতুন নাটকটি সম্পর্কে আবুল হায়াত বলেন, ‘কান পেতে রই’ মূলত একটি প্রেমের গল্পের নাটক। এ নাটকের মধ্যদিয়ে আমি একটি বিষয়ই তুলে ধরতে চেয়েছি, তা হলো- ভালোবাসার কোনো মৃত্যু নেই। এতে আমার স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান এবং আমার পুত্র এবং পুত্রবধূর চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাহেদ ও দীপা খন্দকার।
নাটকটি নিয়ে অভিনেত্রী দিলারা জামান বলেন, ‘হায়াত ভাইয়ের লেখা গল্পে একটা অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে সবসময়। তিনি বেশ ধরে ধরে কাজ করেন বলে কাজটাও ভালো হয়।’ শাহেদ শরীফ খান বলেন, ‘নাটকে কিংবা সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ কী না সেটাই আসলে আমার কাছে বিশেষভাবে দেখার বিষয়। আমি এখনো নিয়মিত অভিনয় করছি, পরিচালকরা আমাকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন-এটাই একজন অভিনেতা হিসেবে আমার বড় প্রাপ্তি। আমি আজীবন অভিনয়টাই ভালোবেসে করে যেতে চাই।’ দীপা খন্দকার বলেন, ‘আমি সবসময়ই বলে এসেছি যে সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে কিংবা জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতেই আমার বেশি ভালো লাগে। কারণ তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখা যায়। তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে মনে হয় অভিনয়ের পাঠশালা। হায়াত আঙ্কেল বা দিলারা আন্টির সঙ্গে কাজ করেও আমি নিজেকে অভিনয়ে এখনো সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করি। এটাই তো অনেক বড় প্রাপ্তি। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা হায়াত আঙ্কেলকে এ নাটকে আমাকে সম্পৃক্ত রাখার জন্য।’ এদিকে আবুল হায়াত আগামী বিজয় দিবসে আরও একটি নাটক নির্মাণ করবেন এটিএন বাংলার জন্য। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি নাটক ও সিনেমায় অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় আবুল হায়াত মঞ্চে প্রথম ‘টিপু সুলতান’ নাটকে অভিনয় করেন। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে মঞ্চে তার প্রথম নাটক আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘারে রোঁ’। টিভিতে তার প্রথম নাটক ছিল জিয়া হায়দারের প্রযোজনায় ‘ইডিপাস’। মঞ্চে তার নির্দেশিত প্রথম নাটক ‘আগন্তুক’ এবং টিভিতে ‘হারজিৎ’। প্রথম অভিনীত সিনেমা ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’। ১৯৭৪ সালে আলী যাকেরের নির্দেশনায় মঞ্চে ‘বাকী ইতিহাস’ নাটকে অভিনয় করে তিনি ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড ফর ইনট্রিডিউসিং ন্যাচারালিস্টিক অ্যাক্টিং অন বাংলাদেশ স্টেজ’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।





