নৌভ্রমণের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ!

এ ধরণের নৌকাতেই চলছে অশ্লীলতা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

অপরাধ

নৌভ্রমণের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ!

  • চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৬ অগাস্ট, ২০১৯

পাবনার চাটমোহরে চলতি বর্ষা মৌসুমে নৌ ভ্রমণ ও ভুড়িভোজনের আড়ালে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ। দিনে-রাতে প্রকাশ্য চলা এ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আন্তরিকতা দেখা যায়নি পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে বিলপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে। বিলে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে। এ খবর জানেন হান্ডিয়াল ইউপি চেয়ারম্যান। অজানা নেই হান্ডিয়াল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জেরও।

সরেজমিনে উপজেলার হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া বিলে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নৌভ্রমণের নৌকার সামনে দৃষ্টিকটু পোশাকে নাচছেন নর্তকীরা। সিনেমা স্টাইলে নর্তকীকে সঙ্গ দিচ্ছেন যুবক ও তরুনেরা। গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে চলছে এ নৃত্য। ছাউনির ভেতরেও চলছে নাচ। সেখানকার পরিবেশটা আরও লজ্জাস্কর। তবে অন্য একটি নৌকার কাছাকাছি আসতেই নর্তকীরা সামনের অংশে থেকে দ্রুত চলে যাচ্ছে ছাউনির ভেতরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কথিত এ সব নর্তকীরা মুলত যৌনকর্মি। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এদের আনা হচ্ছে। বিনিময়ে এদের হাতে দেওয়া হচ্ছে মোটা টাকা। অভিযোগ, দিনে আয়োজকদের নৃত্যের মাধ্যমে আনন্দ দিচ্ছেন এরা। অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে ‘আনন্দ’ দিচ্ছেন রাতে।

একাধিক সুত্র জানাচ্ছেন, নর্তকী থাকা নৌকাগুলা গভীর বিলে চলে যায় রাতে। রাতভর বিলেই থাকে। রাত যত গভীর হয়, নৃত্যের সাথে সাথে অশ্লীলতাও বাড়তে থাকে। কিছু কিছু নৌকায় চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। এ ধরণের নৌকাগুলার বেশিরভাগ অংশ কৌশলে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখছেন নৌমালিকেরা।

নিমাইচড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন জানালেন, এ সব নর্তকীর কারণে পরিবারও স্বজনদের সাথে নৌকাভ্রমণে আসলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন বললেন, আমিও শুনেছি। গ্রাম পুলিশ দিয়ে টহল দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ওরা সংখ্যায় বেশি। তাই কিছু করা যায় না। তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে ৪টি নর্তকীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পিছু হটেছি।

হান্ডিয়াল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানালেন, দুই দিন আগে দুইজন মেয়েকে আটক করে চাটমোহর থানায় হস্তান্তর করেছি। ভ্রাম্যমান আদালত চালানো হলে বন্ধ হতে পারে এ অসামাজিক কার্যকলাপ। অসহায় প্রকাশ করে জানান, পুলিশ দেখলে মেয়েরা পানিতে ঝাঁপ দেয়। এতে অঘটন ঘটলে সে দায় নেবে কে?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বললেন, আমি এসিকে বলে দিচ্ছি। আজ (২৪ আগষ্ট) রাত থেকেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা হবে। কোন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads