নৌকা-ধানের শীষে লড়াইয়ের আভাস

লোগো নৌকা-ধানের শীষ

নির্বাচন

নৌকা-ধানের শীষে লড়াইয়ের আভাস

  • অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
  • প্রকাশিত ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাহুবল থেকে

ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাসে শুক্রবার রওনা দিয়ে বাহুবলের মিরপুরে নেমে ‘হক ফার্মেসির’ বারান্দায় দাঁড়াতেই জনৈক ব্যক্তি বলে উঠলেন, কোনো ‘খেলাধুলা’ না হলে এবার ধানের শীষের রেজা কিবরিয়া অনায়াসে পাস। অন্যজনের বক্তব্য, ড. রেজা মানুষ ভালো হলেও প্রতীক ভালো নয়। কাজেই কাঙ্ক্ষিত ভোট তিনি পাবেন না। তৃতীয় আরেকজনের সাফ কথা, এখানে খুব সহজেই নৌকা ভাসবে। নৌকা ভাসবে ‘করাঙ্গী’ আর নবীগঞ্জে। ‘নৌকা’ ভাসবে ‘বরাকে’। আরেকজনের পাল্টা যুক্তি, এবার বাহুবল-নবীগঞ্জে ব্যাপক বোরো চাষ হচ্ছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে ধানের শীষ সবুজ হবে। সময় যতই গড়ায়, তর্কও বাড়তে থাকে।

হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকাটি পাহাড়, সমতল ভূমি, হাওর-বাঁওড় অধ্যুষিত। রয়েছে চা বাগান। এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গণফোরাম থেকে ভোটে লড়ছেন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে নানা বিতর্ক রয়েছে। নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর সন্তান দেওয়ান শহনেওয়াজ গাজী মিলাদ। লাঙ্গল প্রতীকের আতিকুর রহমান আতিকের খুব একটা প্রচারণা নেই। অন্য প্রার্থীরা আলোচনাতেও নেই।

মিরপুর থেকে বেরিয়ে মোটরাইকেলে নবীগঞ্জের পথে রওনা হয়ে পাওয়া গেল ভোটের আঁচ। রাস্তার দুই ধারে কাজ করা শ্রমিকরা দুই পক্ষ। এক পক্ষ নৌকায় ভোট দেবে। অন্য পক্ষ ধানের শীষে। কেন ধানের শীষ? উত্তরে এক শ্রমিক জানান, রেজা কিবরিয়ার বাবাকে গুণ্ডারা বোমা মেরে খুন করেছে। হত্যাকারীদের বিচারের জন্য ভোটটা দেব। পুরো সন্ধ্যা জুড়ে নৌকা আর ধানের শীষের পক্ষে-বিপক্ষে নানা কথা শোনা গেল। তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, হবিগঞ্জ-১ আসনে নৌকা আর ধানের শীষের দুই প্রার্থীই আলোচনায়।

প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী  ফরিদ গাজীর বড় সন্তান শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী গত পাঁচ বছর সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। এ আসনে তার অবস্থান শক্ত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ছেড়ে ধানের শীষে ভোট করা গণফোরাম প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার শক্তি তার ক্লিন ইমেজ।

সাড়ে তিন লাখের বেশি ভোটারের এ আসনটিতে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীই জনসংযোগ চালিয়েছেন। নৌকার পোস্টারে ছেয়ে গেছে নবীগঞ্জ ও বাহুবল। মাঝেমধ্যে কোনো ফাঁকফোকরে দুলতে দেখা গেছে ধানের শীষের পোস্টারও। কিছু কিছু এলাকায় আবার নৌকা, লাঙ্গল ও ধানের শীষের পোস্টারের সহাবস্থান রয়েছে। রেজা কিবরিয়া এলাকায় জনসংযোগ চালিয়ে প্রচারণার শেষ দিনটি পার করেছেন। আর মিলাদ গাজী উঠান বৈঠক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্নভাবে ভোটারদের দৃষ্টি কেড়েছেন।

স্বাধীনতার পর হবিগঞ্জ-১ আসনে পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন দেওয়ান ফরিদ গাজী। ’৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারিসহ দু’বার নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া, দুইবার জাসদ ও সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনসহ দু’বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিজয়ী হন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads