করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে প্রায় নীরবেই শেষ হলো এবারের অমর একুশে বইমেলা। গতকাল সোমবার অমর একুশে বইমেলার শেষদিনে নতুন বই এসেছে ৬৪টি এবং মেলায় প্রকাশিত সর্বমোট নতুন বইয়ের সংখ্যা ২৬৪০টি। মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
এবার বর্ষীয়ান লেখকরা বইমেলায় তেমন আসেননি। কিন্তু তরুণ লেখকদের পদচারণায় মুখর ছিল বইমেলা। মেলায় এসে পাঠকরা বললেন, এই মহামারীর মধ্যে মেলা চালানো বড় ঝুঁকির বিষয় ছিল। তার পরেও কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই মেলা পুরো সময় পেরিয়ে এলো সেটাও বড় অর্জন। গতকালের বিষয়ভিত্তিক বইগুলো হলো-গল্প-৬, উপন্যাস-৪, প্রবন্ধ-৮, কবিতা-২৯, ছড়া-৪, জীবনী-২, মুক্তিযুদ্ধ-২, নাটক-১, বঙ্গবন্ধু-৪ এবং অন্যান্য-৬টি বই।
এদিকে অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-উড়কি (স্টল নম্বর-৪৩) এক ইউনিট, সংবেদ (স্টল নম্বর-১৮৯, ১৯০) ২-৪ ইউনিট, কথাপ্রকাশ : প্যাভেলিয়ন-২০।
তাম্রলিপির প্রকাশক এ কে তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, মেলায় এবার বিক্রি কম। করোনার প্রভাবে এটা হয়েছে। এতে কাউকেই দায়ী করা যাবে না। সবারই ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি থাকবেই। মেলায় বই বিক্রি না হলেও সে বই নষ্ট হবে না। যে বই মেলা থেকে বিক্রি হয়নি সেটা অনলাইনে বিক্রি হবে। নয়তো পরের বছর বিক্রি হবে। এ নিয়ে হতাশ না হয়ে সামনের দিকে তাকাতে হবে।
ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, করোনার কারণে ফেব্রুয়ারির মেলা মার্চে শুরু হয়েছিল। এই সময়টা মেলার জন্য উপযোগী নয়। গরমের কারণে মেলায় অনেকেই আসেননি। এরপর থেকে একুশের বইমেলা ফেব্রুয়ারিতেই যেন করা হয়। অন্য কোনো সময় নয় এই দাবি জানালেন তিনি।
গত ১৮ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয় বহুল কাঙ্ক্ষিত অমর একুশে বইমেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।





