তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাবলীগ জামাতের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা দুই গ্রুপের মুরুব্বিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানে দুই পক্ষের কেউ অবস্থান করতে পারবে না এবং নির্বাচনের পরে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ইজতেমার সিদ্ধান্তের আগে ময়দান থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে’।
আজ শনিবার সকাল থেকে টঙ্গীতে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন নিহত ও দুই শতাধিক মুসল্লি আহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জরুরি এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বৈঠকে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারী এবং বিরোধীরা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৭ নভেম্বর দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই বৈঠকে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে তাবলীগ ও সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতে পাঠানো সিদ্ধান্ত হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে তাদের কার্যক্রমও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। নির্বাচন শেষ হলে দুপক্ষকে নিয়ে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে আজ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভি অনুসারীরা ২০১৯ সালের ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। অন্যদিকে, সাদবিরোধীদের একাংশ হেফাজতে ইসলামপন্থী কওমি আলেমদের নিয়ে এক সমাবেশে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষই পৃথক তারিখে জেলাভিত্তিক জোড়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। আর এই জোড়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাঁধে।





