আইন-আদালত

আদালতে মামলার ভিড়-২

নথিভুক্তিতে গোঁজামিল

  • মোহসিন কবির
  • প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে একদিকে বিচারক বা আদালত সঙ্কটে প্রতিদিন হাজারো মামলার কারণে তাড়াহুড়ো করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় বিচারককে। এ কারণে বিচারপ্রার্থীর সীমাহীন হয়রানি এবং ভোগান্তির বিষয়টি ধারাবাহিক এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্বেই তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার নথিভুক্তির ক্ষেত্রেও গোঁজামিলের আশ্রয় নিতে হয় সংশ্লিদের। মামলা নথিভুক্তির এই কাজটি হয়ে থাকে মূলত নেজারত শাখায়। মহানগর দায়রা জজসহ অধীনস্থ ১৫টি আদালতের বিচারকাজ পরিচালনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত নথিভুক্তির বিষয়টি। মামলা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এই শাখার গুরুত্ব অপরিসীম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ৭২ হাজার মামলার পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন আসা মামলাগুলো অন্তত চারটি শাখায় নথিভুক্ত করতে হয়। মামলাগুলো গ্রহণ করে নথিভুক্ত করা ছাড়াও বেলবন্ড প্রস্তুত, বিভিন্ন কোর্টে পাঠানো, যেসব মামলায় আদালত পরিবর্তন হয় সেগুলোর নতুন নাম্বার দেওয়াসহ বিপুল কাজের যোগান দিতে হয় এই শাখাকে। কিন্তু হাজার হাজার মামলা নথিভুক্ত করার জন্য যে পরিমাণ লোকবল দরকার তার সিকিভাগও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরকে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে হলেও নথিভুক্তির কাজগুলো সম্পন্ন করতে হয়। অর্থাৎ, অনেকটা ভাড়ায় খাটিয়ে এসব কাজ করানো হয়। অথচ এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ মামলার তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া, এসব লোকের মজুরি আদায় করা হয় বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকেই। ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক সময় মামলার নথি খুঁজে পেতেও তাদের নানামুখি হয়রানির শিকার হতে হয়। যথাযথ প্রক্রিয়ায় মামলাগুলো নথিভুক্তির বিষয়টি না হওয়ায় এই ভোগান্তি হয় উল্লেখ করে তিনি জানান, নিরুপায় হয়ে আইনজীবীরা তখন দিনের পর দিন সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে নিজেরা উদ্যোগী হয়ে নথি খুঁজতে থাকেন। আদালতের নিজস্ব লোকের বাইরে অন্য লোক দিয়ে মামলা নথিভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে এরকমটি হলে সেটি অবশ্যই উদ্বেগের।’ ইকবাল হোসেন বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা মহানগর দায়রা জজকে বারবার  অবহিত করেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

এ ব্যাপারে প্রখ্যাত আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, বিপুল পরিমাণ মামলার জন্য যে লোকবল সেটি না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা এটি করছেন। তিনি এজন্য বিচার বিভাগের প্রতি সরকারের বিমাতাসুলভ নীতিকে দায়ী করে বলেন, বিচার বিভাগের জন্য সরকারের বরাদ্দ মাত্র শূন্য দশমিক তিন অথবা চার শতাংশ। যেখানে মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ এর দিগুণেরও বেশি। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নমুখী নীতির কারণে বিচার বিভাগের চেয়ে মৎস ও পশুসম্পদ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি এই সমস্যার সমাধানের জন্য বিচার বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিম্নআদালতের আইনজীবীরা অভিযোগের সুরে বলেন, কোনো মামলার শুনানির পর পরবর্তী কার্যক্রমের নথির জন্য ১ সপ্তাহেরও বেশি লেগে যায়। এতে একদিকে, বিচারপ্রার্থীরা যেমনি ভোগান্তিতে পড়েন তেমনি আইনজীবীরাও। আইনজীবী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, মামলায় নথিপত্র পেতে যে পরিমাণ সময় ও শ্রম ব্যয় হয় তাতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads