নতুন সিইসি হাবিবুল আউয়াল

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

নতুন সিইসি হাবিবুল আউয়াল

  • রেজাউল করিম হীরা
  • প্রকাশিত ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, অপর চার নির্বাচন কমিশনার হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশিদা সুলতানা ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, আমি কী বলব? বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি যে নির্বাচন কমিশনার হবো এমনটা আমার ধারণাতেও ছিল না। দুই-একদিন যাক, একটু দেখি-বুঝি, তারপর বলব।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আরেক সাবেক সিনিয়র সচিব আনিছুর রহমান অবশ্য নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আইন ও বিধি অনুযায়ী সংবিধান আমাকে যেটুকু ক্ষমতা দিয়েছে তার আলোকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি জাতির প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে বসি, আলাপ-আলোচনা করি। কী আছে কী করতে হবে। এককভাবে তো হবে না, কমিশন মানে সবাই মিলে। আমাদের শপথ হবে। আমরা বসব, আলাপ-আলোচনা করব। আমাদের সামনে কী অপেক্ষমাণ, সেগুলো দেখে-শুনে এ বিষয়ে বলাটা ঠিক হবে।

নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্বে যারা এসেছেন তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। নতুন ইসি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির পর এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন তাকে আওয়ামী লীগ স্বাগত জানায়। নতুন কমিশনকে অভিনন্দন। নতুন কমিশনে সিইসি ও চার কমিশনার হিসেবে যারা এসেছেন তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজের জায়গায় মেধা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও সততার স্বাক্ষর রেখে এসেছেন।

 

তিনি বলেন, কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। সমাজেও কখনো তাদের নিয়ে কোনো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ শোনা যায়নি। এসব বিবেচনায় নতুন নির্বাচন কমিশন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

তবে নবগঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিশন গঠনের পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জাা ফখরুল বলেন, আমরা আগেও বলেছি এখনো পরিষ্কার করে বলছি, শুধু নির্বাচন কমিশন নয় আওয়ামী লীগ যা কিছু করবে সব তাদের নিজেদের লোকদের দিয়ে করবে। সুতরাং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আমাদের কাছে অর্থবহ নয়, তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে ১০ জনের নাম সুপারিশের জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে এর প্রধান করা হয়। যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাছাই করতে গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনটি বৈঠক করে সার্চ কমিটি। এসব বৈঠকে অংশ নেওয়া বিশিষ্টজনরা নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য  ব্যক্তিদের কিছু নাম প্রস্তাব করেন।

এর আগে সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সবার কাছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম চাওয়া হয়। আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল নাম পাঠায়। অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও নাম পাঠান। তবে বিএনপি এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।

সার্চ কমিটির কাছে মোট ৩২২ জনের নাম জমা পড়ে। এরপর তারা কয়েকটি বৈঠক করে ওই ৩২২ জন থেকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ১০ জনের এ তালিকা জমা দেন সার্চ কমিটির সদস্যরা।

প্রসঙ্গত কাজী হাবিবুল আউয়ালও একজন দক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার পরও সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি আইন, ধর্ম ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন কর্মঠ, সৎ এবং ব্যক্তিত্ববান মানুষ হিসেবে পরিচিত।

নতুন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর এর আগে ২০১৯ সালের ১০ জুন সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন। ওই বছরেরই ১৬ সেপ্টেম্বর সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। তারও আগে তিনি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সর্বশেষ ইসির মেয়াদ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। স্বাধীনতার পর এবারই আইন অনুযায়ী প্রথম ইসি গঠিত হচ্ছে। এ জন্য গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এর আগেও দুটি নির্বাচন কমিশন সার্চ কমিটি গঠন করে করা হয়েছিল। এই কমিটি রাষ্ট্রপতিকে নাম সুপারিশ করার পর ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও ২০১৭ সালে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। দুবারই বিএনপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। সার্চ কমিটিতে নামের তালিকাও জমা দেয় দলটি। তবে এবার বিএনপি শুরু থেকেই সার্চ কমিটির বিরোধিতা করেছে। সার্চ কমিটির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৈঠকে অংশ নেয়নি। কোনো নামও দেয়নি।

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আপিল বিভাগ অসাংবিধানিক ঘোষণার পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে আওয়ামী লীগ। তবে এর প্রতিবাদে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের ডাক দিয়ে আন্দোলনে নামে বিএনপি।

ব্যাপক প্রাণহানি ও সহিংস সেই ভোটের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশ নেয় দলীয় সরকারের অধীনেই। তবে সেই নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে-এমন অভিযোগ ওঠে। এ কারণে দলীয় সরকারের অধীনে আর ভোটে যেতে চাইছে না দলটি।

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা একটি মীমাংসিত ইস্যু। শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন করতে এবার নির্বাচন কমিশন আইনও করা হয়েছে। আর এই আইনের আলোকেই গঠন করা হয় সার্চ কমিটি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads