এশিয়া কাপের প্রথম তিন ম্যাচের রান হতাশা ছড়িয়েছিল (০, ৬, ৭)। তবে পরের তিন ম্যাচের দুই ম্যাচের রান আশাজাগানিয়া (৪১, ৬, ১২১)। ফাইনাল ম্যাচে সেঞ্চুরি, যা ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম শতকের ঘটনা। এত গেল ওয়ানডের দৃশ্য। টি-টোয়েন্টিতে শেষ চার ম্যাচের রান ১২, ২৪, ১, ৬১। আর টেস্টের শেষ চার ম্যাচে তার রান ২৫, ২, ১২, ৩৩। তিন ফরম্যাটের শেষ ম্যাচ হিসাবে ধরলে রান বেশ ভালো। সেঞ্চুরি, হাফসেঞ্চুরি, ত্রিশের ওপর রান। তবে ধারাবাহিকতাটা আমলে আনলে ওয়ানডেতে বড্ড ধূসর লিটন কুমার দাস। এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন বলেই দলে তার অবস্থানটা নড়বড়ে হয়নি। তা না হলে দলে টেকাই দায় হতো।
আর সে কারণেই রানের ধারাবাহিকতায় মূল লক্ষ্য এই ওপেনারের। চোখ বড় বড় ইনিংস খেলার। এশিয়া কাপের পর দেশে ফিরে জাতীয় ক্রিকেট লিগে হাঁকিয়েছেন ডবল সেঞ্চুরি, যা আবার দ্রুততম দ্বিশতকও। ভেঙেছেন নিজের রেকর্ডই। কোন সেঞ্চুরিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ লিটনের কাছে। গতকাল জাতীয় দলের তৃতীয় দিনের ক্যাম্প শেষে লিটন এগিয়ে রাখলেন এশিয়া কাপের শতককেই, ‘অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্ববহ। আপনারাও ভালো জানেন, আমি অনেক দিন ধরেই ব্যাকফুটে ছিলাম। পারফরম করাটা আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একই সঙ্গে আমার জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার।’
এশিয়া কাপে ভালো ইনিংসের পর ধারাবাহিকতাটাই মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরে এগোচ্ছেন লিটন- ‘হ্যাঁ, আমার মূল লক্ষ্য এটাই। আমার মনে হয় আমি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলি, তখন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে থাকি। ওই জিনিসটাই ঘাটতি ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আমি চেষ্টা করছি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ধারাবাহিকভাবে পারফরম করে যাওয়ার।’ ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে ইদানিং রানের দেখা পাচ্ছেন লিটন। এর পেছনে নিজের ব্যাটিং স্টাইলকেই সামনে আনলেন, ‘আমার খেলার ধরনটাই এমন। রেসিপিটা কী সেটা কীভাবে বলব বুঝতে পারছি না। আমার ন্যাচারাল খেলার ধরনটাই এমন।’ এশিয়া কাপে যাওয়ার আগে লিটন বলেছিলেন, বড় ইনিংস খেলে বড় খেলোয়াড়রা। লিটন নিজেও ফাইনালে ১২১ রানের বড় ইনিংস খেলেছিলেন। নিজেকে মূল্যায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখনো বড় প্লেয়ার হইনি। কিন্তু আমি চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিয়মিত পারফর্ম করার।’ এশিয়া কাপের সেঞ্চুরি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে না। তবে চাপমুক্ত হয়ে খেলার রসদ পেয়েছেন লিটন। তার মতে, ‘আমি বলব না যে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আগের থেকে একটু চাপমুক্ত অবস্থায় আছি, এটা বলতে পারেন। আর নিজের প্রতি একটু আত্মবিশ্বাস এসেছে। এই ইনিংস একেবারে বদলে দিয়েছে ক্যারিয়ার, বিষয়টা এমন নয়। আমার কাছে প্রতিটা ম্যাচই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা সত্যি, একটি ম্যাচ অনেকের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু আমাকে পরের ম্যাচে কিন্তু আবার শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে।’
এশিয়া কাপের পরই দেশের মাটিতে দ্বিশতক করা প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘ক্রিকেট সম্পূর্ণ মানসিকতার খেলা। মানুষ বলে, মন যত পরিষ্কার থাকবে তত ভালো খেলবেন। যেহেতু পারফরম করিনি, তখন মনে নিজের সামর্থ্য নিয়ে একটু প্রশ্ন থাকেই। আর পারফরম করার পর মানসিকভাবে একটু চাপমুক্ত হওয়া যায়। এজন্য হয়তো ভালো হয়েছে।’
তামিম নেই আসন্ন সিরিজে। ওপেনিংয়ে লিটনের সঙ্গী হবেন নতুন কেউ। এ প্রসঙ্গে লিটনের অভিব্যক্তি, ‘আমিও যে দলে নিয়মিত ছিলাম, তাও নয়। তামিম ভাই ছিলেন নিয়মিত। তার সঙ্গে সবাই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিল। আমার নিয়মিত হওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। আমার সঙ্গে যে সঙ্গী হবে, সেও নতুন হবে, আমিও নতুন। হ্যাঁ, আত্মবিশ্বাসের জায়গা থেকে একটু ভালো জায়গায় আছি হয়তো। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, প্রতিটা ম্যাচ নির্ভর করে সেই দিনের ওপর। হতে পারে পরের ম্যাচে আমি শূন্যও করতে পারি। সেই আকাশছোঁয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে কোনো লাভ নেই।’ পূজার ছুটিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প। মনের কষ্ট হয়তো চাপিয়ে হাসার চেষ্টা করলেন লিটন- ‘এক্সিলেন্ট, খুব ভালো। না, তেমন নয়। গত দুই বছর ধরে তো মাঠেই ছিলাম। এখন দেশে, দুই বছর দেশের বাইরে ছিলাম। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। পেশাদার প্লেয়ারদের একটু ছাড় দিতেই হবে।’
২১ অক্টোবর থেকে মাঠে গড়াবে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ। ওপেনিংয়ে নেই তামিম। শুরুর দিকে গুরুদায়িত্ব বর্তাবে লিটনের ওপরই। এর মধ্যে থাকছে প্রত্যাশার চাপ। লিটন বলছেন, ‘এটা তো অবশ্যই। কিছু পেতে হলে কিছু দিতেও হবে। আমিও জানি যে আমাকে রান করতে হবে। দলের সদস্যরাও চাইবে, যেহেতু আমি ভালো খেলেছি সেটা যেন ধরে রাখি। এটা দুই দিক দিয়েই থাকবে।’