ধর্ষণের পর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও করে অর্থ দাবি, ৬ কিশোর আটক

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

ধর্ষণের পর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও করে অর্থ দাবি, ৬ কিশোর আটক

  • চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ এপ্রিল, ২০২১

ফেসবুকের মাধ্যমে শহরের সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরীর (১৪) সঙ্গে জীমের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে জিম নামের এক বখাটের। বন্ধুত্বের সম্পর্ক ধরে স্কুল ছাত্রীটি বখাটে জিমের সাথে দেখা করতে আসলে তাকে কৌশলে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে জিম। ধর্ষণের ভিডিও ও ছবি ধারণ করায় তার বন্ধুদেও দিয়ে। ধর্ষণের পর থেকে বখাটে জিমসহ তার বন্ধুরা ধর্ষণের ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় স্কুল ছাত্রীটিকে ব্লাকমেইল করে নগদ অর্থসহ সোনার গহনা হাতিয়ে নেয়।

এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে তার বাবা বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি লিখিত অভিযোগসহ অবহিত করেন।

পুলিশ সোমবার রাতে শহরের কেদারগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ওই ৬ কিশোরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল রাত তিনটার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আটককৃতরা হলো- শহরের কেদারগঞ্জের মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে জোবায়ের হোসেন জীম (১৮), মুন্সিপাড়ার কেতাব আলীর ছেলে মেহেদী হাসান রাকিব (১৭), পলাশপাড়ার আনোয়ারের ছেলে রায়হান রাজ (১৬), কেদারগঞ্জের আশরাফুল ইসলামের ছেলে ইমরান খান (১৬), জীবননগর বাসষ্ট্যান্ড পাড়ার মৃত আবু হোসেনের ছেলে সিমরান শেখ (১৬) ও কেদারগঞ্জের মুনছুর আলীর ছেলে মারুফ হাসান আপন (১৬)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৮ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে শহরের সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরীর (১৪) সঙ্গে জীমের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ জীমসহ আরও বেশ কয়েকজন ওই স্কুলছাত্রীকে মহিলা কলেজপাড়ার একটি বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এসময় জীম ওই কিশোরীকে ধর্ষণ শেষে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। এ ঘটনায় বাকী আসামিরা জীমকে সহযোগিতা করে। এরপর থেকেই ধারণকৃত ওইসব অশালীন ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করে চক্রটি।

পুলিশ জানায়, ছবি ও ভিডিও প্রকাশরে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী মেয়েটির কাছে চাঁদা দাবি করতো চক্রটি। ভয় পেয়ে ওই স্কুলছাত্রী তাদের দাবি মতো টাকা ও স্বর্ণালংকার দিতে বাধ্য হয়। এরই মধ্যে নগদ ১৬ হাজার টাকা ও বেশ কিছু স্বর্ণালংকারও চক্রটির হাতে তুলে দেয় ওই কিশোরী। গতকাল সোমবার নতুন করে আবারও ২৫ হাজার টাকা দাবি করে অভিযুক্তরা। পরে কোনো উপায়ন্ত না পেয়ে স্কুলছাত্রী পুরো বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আটককৃতদের ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ, পর্ণোগ্রাফী ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের মোবাইলফোন থেকে ধারণ করা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads