লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার তিন বিঘা করিডোর গেটে দুই বাংলাদেশী যুবক ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ১০০ গজ ভেতরে প্রবেশ করায় তাদের রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বিএসএফ সদস্যরা। তাৎক্ষণিক এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহবান করে বিজিবি।
সোমবার সন্ধ্যায় তিনবিঘা করিডর গেটের পানবাড়ি অংশে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পতাকা বৈঠকে মিলিত হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় বাংলাদেশের ভূখন্ড দহগ্রাম আঙ্গপোতা এলাকায় প্রবেশ দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এতে তিন বিঘা করিডোর গেটের দুই পাশে শত শত মানুষ ও যানবাহন আটকা পড়ে। পরে পতাকা বৈঠক শেষে রাত ৮টায় লোকজনের চলাচলের জন্য গেট ও সড়ক ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিজিবি ও স্থানীয়রা জানান, ওইদিন দুপুরে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ খড়িবাড়ি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩২) ও একই এলাকার রশিদুল ইসলামের ছেলে আল মামুন (৩০) ভুলবশত ভারতীয় তিনবিঘা করিডর গেট ও সড়ক ট্রাফিক পয়েন্টের বাম দিকের সড়ক হয়ে প্রায় একশ গজ ভেতরে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করে। এ সময় ভারতীয় তিনবিঘা ক্যাম্পের টহল দলের বিএসএফ সদস্যরা ওই দুই বাংলাদেশিকে আটক করে। এসময় রাইফেল দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত অবস্থায় ছেড়ে দেয় বিএসএফ সদস্যরা। পরে তারা তিনবিঘা করিডর পানবাড়ি চেকপোস্টে এসে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদেরকে বিএসএফের মারডাং-এর ঘটনা জানায়। বিজিবি তাৎক্ষণিক বাংলাদেশি দুই যুবককে মারডাং-এর প্রতিবাদ করে ও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। পরে সন্ধ্যায় পতাকা বৈঠকে মিলিত হয় বিএসএফ ও বিজিবি। বৈঠকে ভারতীয় তিনবিঘা ও ভীম ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অন্যান্য বিএসএফ-এর কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকে বিএসএফ বাংলাদেশিকে মারডাং-এর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে তারা জানায়। বৈঠকের সময় ভারতীয় সড়ক ও গেট ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
এ ব্যাপারে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভুলবশত বাংলাদেশি যুবকের প্রবেশ ও বিএসএফ-এর মার ডাং-এর ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে আলোচিত তিনবিঘা করিডর গেট ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেন।





