দুই বছরে ১৬ বার সময় নিল সিআইডি

সংগৃহীত ছবি

অপরাধ

ফারুকী হত্যার প্রতিবেদন দাখিল

দুই বছরে ১৬ বার সময় নিল সিআইডি

  • এ এইচ এম ফারুক
  • প্রকাশিত ১৬ মার্চ, ২০২০

টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পেছাল। গত প্রায় দুই বছরে এ নিয়ে অন্তত ১৬ বার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গতকাল রোববার নির্ধারিত দিনে আদালতে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় বিচারক আগামী ২৩ এপ্রিল প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেছেন। এর আগে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করেছিল। মাওলানা ফারুকী হাইকোর্ট মাজার জামে মসজিদের খতিব ও চ্যানেল আইয়ের কাফেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন। তাকে ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর রাজাবাজারের বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে। গতকাল রোববার ফারুকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর রহমান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের নিজ বাড়িতে খুন হন মাওলানা ফারুকী। ওই দিন এশার নামাজের পর অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী, এক ছেলেসহ তিন স্বজনের হাত-পা বেঁধে ফারুকীকে গলা কেটে হত্যা করে। ওই ঘটনায় পরে তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। থানা হয়ে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে হাতে যায়। কিন্তু মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। উদ্ধার হয়নি হত্যাকাণ্ডের ক্লু। শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হয়নি খুনিরা। ফলে হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ মাস পর ডিবি থেকে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। এখন সিআইডি তদন্ত করছে মামলাটি।

কিন্তু ২০১৮ সালের ৮ জুলাই থেকে গত প্রায় দুই বছরের অন্তত ১৬ বার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় সময় প্রার্থনা করলে তৎকালীন ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল হক ১৪ আগস্ট ২০১৮ নতুন করে দিন ধার্য করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সেদিনও তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় তৎকালীন ঢাকা মহানগর হাকিম সুব্রত ঘোষ শুভ নতুন করে ৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেন। ৩ অক্টোবরও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হয় সিআইডি। সেদিন সময় প্রার্থনা করায় তৎকালীন বিচারক সুব্রত ঘোষ শুভ ১২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ১২ নভেম্বর ওই মামলার বিচারক ছিলেন ঢাকা মহানগর আদালতের বিচারক দেবব্রত বিশ্বাস। সেদিনও সিআইডি প্রতিবেদন জমা না দিয়ে সময় প্রার্থনা করলে বিচারক ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এভাবে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে গতকাল ১৫ মার্চ পর্যন্ত ১৬ বার সময় নেয় তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads