আলোচিত ২১ গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের সময় এক ঘণ্টার মধ্যে দুই দফা বিদ্যুৎবিভ্রাটের ঘটনায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) লালবাগ নেটওয়ার্ক অপারেশন অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসের (এনওসিএসএস) চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তরা হলেন, লালবাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এসি) মো. শাহজাহান আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুজ্জামান, সহকারী প্রকৌশলী সাইদ হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন।
এ ঘটনায় ডিপিডিসির গ্রিডের প্রধান প্রকৌশলী সরওয়ার একায়নাত নূরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্যরা হলেন- ডিপিডিসির রমনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এফ এম মবিন, ডিপিডিসির গ্রিড (উত্তর) ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম-সচিব শেখ ফয়জুল আমীনকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী এ টি এম হারুন অর রশিদ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এসি সিস্টেম প্রটেকশন শেখ ওয়াহিদুজ্জামান এবং পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী প্রণব কুমার। ডিপিডিসির গঠিত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
গত বুধবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে আদালতের এজলাসে বিচারক বসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন তার পর্যবেক্ষণ ও বিচারে বিবেচ্য বিষয়গুলো পড়তে থাকেন।
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনাকীর্ণ আদালতের ভেতরে বাইরে থাকা মামলা সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের আইনজীবী ও সংবাদ সংগ্রহে থাকা সাংবাদিকরা বিপাকে পড়েন। বিদ্যুৎবিভ্রাটে শব্দযন্ত্র (সাউন্ডবক্স) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিচারকের দেওয়া রায়ের বক্তব্যও শোনা যাচ্ছিল না।
দ্বিতীয় দফায় বিচারক যখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করছিলেন তখনো বিদ্যুৎ ছিল না।
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
এ প্রসঙ্গে ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী এ টি এম হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এ ঘটনায় লালবাগ এনওসিএসের চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, কমলদহ ফিডার ট্রিপ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে তা চালু হলেও আবার লালবাগ থানার কাছে বিতরণ লাইনে আগুন ধরে যায়। প্রথমবার বেলা ১১টা ৪২ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। এরপর মেরামত করার পর আবার পাশের তারে শর্ট সার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে আবারো ৫ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। বৃষ্টির কারণে মূলত এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।