ট্রাক-পিকআপে ঢাকা ছাড়ছে কর্মহীনরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

ট্রাক-পিকআপে ঢাকা ছাড়ছে কর্মহীনরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ এপ্রিল, ২০২১

করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা রোধে দেশব্যাপী চলছে কঠোর লকডাউন। গত ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পরে বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। শুরুর দিকে মানুষ বিধিনিষেধ মানলেও দিন যত গড়াচ্ছে ততই যেন তা শিথিল হয়ে পড়ছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ঢাকা ছাড়ছে কর্মহীন মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শুরু থেকেই প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে চড়ে যাত্রীরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এসব পরিবহনের ভাড়া বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই ট্রাক বা পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

যাত্রীরা বলছেন, ট্রাক বা পিকআপের ভাড়া অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় অনেক কম। তাই কম টাকায় বাড়ি যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ট্রাকে যেতে হচ্ছে। গাবতলী গরুর হাটসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের কড়া নজরদারি থাকায় বেশিরভাগ যাত্রী আমিন বাজার ব্রিজের ওপরে গিয়ে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল কিংবা পিকআপে করে বাড়ি ফিরছেন।

গতকাল অন্যান্য দিনের তুলনায় গাবতলী গরুর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ কিছুটা কম তৎপর থাকায় ব্যক্তিগত পরিবহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। এ বিষয়ে গাবতলী এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাছনাত হোসেন বলেন, লকডাউন শিথিল হয়নি। আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলবে দেশে। তবে লকডাউন শুরুর প্রথম দিনে মানুষ রাস্তায় কম বের হয়েছে। এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে সেইসঙ্গে ব্যক্তিগত পরিবহন, রিকশা, সিএনজির সংখ্যাও অনেক বেশি।

গত কয়েকদিন ধরে সকাল-বিকেলে মানুষ কম বের হচ্ছে। এ সময় রাস্তায় পরিবহনের সংখ্যাও কম থাকে। তবে দুপুরের দিকে পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে যায়। আমরা সব জায়গায়ই কঠোরভাবে সরকারের নির্দেশনা পালন করছি। কাউকে বিনা কারণে বাইরে বের হতে দিচ্ছি না। এখনো আগের মতোই মুভমেন্ট পাস চেক করছি। তবে পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় সবাইকে চেক করা যাচ্ছে না। চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করতে, কেউ যেন বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের না হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করছি।  

দিন যতই যাচ্ছে, রাজধানীর সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যাও ততই বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর ১, ২ ও ১০ নম্বর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, টেকনিক্যাল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহন ছাড়া সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। কোথাও কোথাও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় রিকশা, সিএনজি, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলের আধিক্য। কোথাও কোথাও আবার যানজট তৈরি হচ্ছে। এই এলাকার পুলিশ চেকপোস্টের সামনে গাড়ির দীর্ঘ জটলা দেখা গেছে। পথচারীরা বলেন, কঠোর লকডাউন হলেও বাস ছাড়া রাস্তায় এখন সবকিছুই চলছে। রাস্তায় গণপরিবহন না থাকায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালকরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই রাস্তায় প্রাইভেটকার, রিকশা, সিএনজি বেড়েই চলছে। লকডাউনের শুরু থেকে নির্দেশনা মানলেও এখন সেটা অনেকেই মানছেন না। বাইরে বেরিয়ে দেখলে মনে হচ্ছে লকডাউন শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এক কোথায় লকডাউনের লক খুলে যাচ্ছে। আগের মতো করে পুলিশও চেকপোস্টে নজরদারি করছে না।

গাবতলী এলাকার রিকশাচালক ওয়াজেদ হোসেন বলেন, লকডাউনের প্রথম দিকে রাস্তায় তেমন মানুষ বের হয়নি। কিন্তু গত দুদিন ধরে অনেক বেশি মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে। গাড়ির সংখ্যাও অনেক। লকডাউনের শুরুতে যানবাহন রাস্তায় কম ছিল। আগের তুলনায় এখন আমরাও ভালোই যাত্রী পাচ্ছি। লকডাউনের শুরুতে রাস্তায় বের হলে পুলিশ ধরতে পারলে রিকশা উল্টিয়ে রেখে দিত। কিন্তু এখন সেটা আর বেশি করছে না। আগে জিজ্ঞাসা করত কোথায় যাব বা কেন বের হয়েছি। কিন্তু এখন অনেকটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কিছু কিছু অফিস চালু রয়েছে। যার জন্য অনেককেই অফিসে যাওয়ার জন্য বের হতে হচ্ছে। আবার এইসব অফিস কর্মীর জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও করেনি। যার জন্য মানুষ রাস্তায় বের হয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে পরিবহনের জন্য। যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই অফিসে যাচ্ছেন। যার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণরোধে সরকার ঘোষিত ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ৫ এপ্রিল থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। নির্দেশনা অনুসারে জরুরি পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া রাস্তাঘাটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ারও নির্দেশনা ছিল। পরে করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ১১ এপ্রিল শেষ হলেও এর মেয়াদ বাড়িয়ে ১২ ও ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads