পটুয়াখালী প্রতিনিধি
ট্রাক ড্রাইভার আল-আমিনকে খুন করে হাত-পাঁ বেঁধে নদীতে ফেলে রড ছিনতাই করেছে ছিনতাইকারীরা। ট্রাক থাকা একেএস কোম্পানির ছিনতাইকৃত ১৩ টন রডের প্রায় ৯ টন রড পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মাসুদ রানা’র একতা এন্টার প্রাইজের গোডাউন থেকে গত (২৩ এপ্রিল) মঙ্গলবার উদ্ধার করা হলেও রহস্যজনক কারনে এখনও ব্যবসায়ী মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করেনি মামলার তন্তকারী দশমিনা (হাজির হাট) নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা।
তবে এ ঘটনায় পুলিশ একতা এন্টার প্রাইজের ম্যানজার নান্নু মিয়া (৪৫), কর্মচারী দিলিপ (৫০) ম্যানেজার শাহাদুলকে (৪০) এবং দশমিনা উপজেলার ৬৯নং মধ্য জৌতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ঠিকাদার মোঃ মজিবর রহমানকে আটক করলেও রহস্য জনক কারনে ছিনতাইকৃত রড উদ্ধারকৃত গোডাউনের মালিক মাসুদ রানাকে আটক করেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মামলার বাদী মাঃ সবুজ মিয়া বলন, খুন করে ট্রাক সহ রড ছিনতাই আর ছিনতাইকৃত রড ব্যবসায়ি মাসুদ রানার গোডাউন থেকে উদ্ধার করলো। সেখানে গোডাউন মালিককে গ্রেফতার না করে গোডাউনের কর্মচারিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উল্লখ্য, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রা-ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের একটি ট্রাক ১৩ টন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুড়ীর খান এটারপ্রাইজ রডগুলো আনলোড করার কথা। কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকের ড্রাইভার আল-আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা ট্রাকের মালিক মোঃ সবুজ। ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে দশমিনা নৌ-পুলিশ। পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগিনা আল-আমিনের। ময়না তদন্ত শেষে আল আমিনের লাশ চাঁদপুর নিয়ে দাফন করা হয়। এ ব্যাপার দশমিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা নৌ পুলিশের এসআই আল-মামুন বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে খুন করে ঘাতকেরা রডগুলো কালাইয়া বাজারের একতা এটারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলো গুদামে রেখে দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা একপর্যায়ে নিশ্চিত হয়েই রডগুলো মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। অপরদিকে রড পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকটি বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয় গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলতেছে। তদন্তে যারাই অভিযুক্ত হবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে রডগুলো ক্রয় করছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলো ছিনতাইকৃত কিনা তা আমার জানা ছিল না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আল-আমিনকে পরিকল্পিতভাবে খুনের পর রড ছিনতাই করা হয়েছে। আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এন্টারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা কোনো ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।
এ বিষয় দশমিনা (হাজির হাট) নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আখতার হোসন বলেন,এ ঘটনায় ৪জনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয় গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলতেছে। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।





