টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিনিধি রাখার দাবি মুঠোফোন গ্রাহক সংগঠনের

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা

সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল

টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিনিধি রাখার দাবি মুঠোফোন গ্রাহক সংগঠনের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

সাম্প্রতিক সময়ে পাস হওয়া বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ১৩ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রতিনিধি রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

সম্প্রতি রাজধানীর তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদের কনফারেন্স হলে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই দাবি জানান।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চতুর্থ অধ্যায়ের ১২ ধারায় জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ১৩ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে, তাতে ভোক্তা খাতের স্টেকহোল্ডারদের প্রতিনিধি রাখা হয়নি উল্লেখ করে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনে উল্লেখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী- এখানে (৩) উপধারা (১) কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের পরামর্শমতো সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারিত মেয়াদ বা শর্তে কোনো বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে যেমন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনপিএমসি) বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে গণমাধ্যমের একজন জনপ্রতিনিধিকে এর সদস্য হিসেবে যে কোনো সময় কো-অপট করতে পারবে।

কিন্ত এখানে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, এই কমিটিতে প্রযুক্তি খাতের দুটি বড় স্টেকহোল্ডার টেলিকম অপারেটর ও গ্রাহক প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অথচ তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর সংগঠনকে ঠিকই রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংস্কার করে প্রযুক্তি খাতের ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কিছু ধারা সংশোধন করে ও নতুন ধারা সমন্বয় করারও পরামর্শ দেন। সংগঠনটির দেওয়া পরামর্শগুলো হচ্ছে- তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী ৯ সদস্যবিশিষ্ট সেলে গণমাধ্যম ব্যক্তি ও গ্রাহক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সরকার যদিও বলছে ফেসবুক, টুইটার, গুগলসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ ধরনের কোনো ধারা ও উপধারা না থাকায় নতুন করে এদের দেশীয় আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজন নতুন ধারা-উপধারা সংযুক্ত করা।

তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তি খাতে ব্যবহারকারীদের অধিকার আদায়ের জন্য নতুন ধারা সংযুক্ত করতে হবে। মুক্তচিন্তার অধিকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও গবেষণা কাজে ব্যবহারকারীদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখতে হবে। বিনা ওয়ারেন্ট বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পুলিশের গ্রেফতারি ক্ষমতা প্রত্যাহার করতে হবে। সামাজিক জনসচেতনতা গড়তে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। সেই সঙ্গে স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে প্রযুক্তি খাতের অপব্যবহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে ধারণা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দ্রুত ফেক আইডিসমূহ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, এ আইনের ফলে ব্যবহারকারীদের স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা করে ব্যবহারকারীদের আইনের আওতায় আনার সব বিধি-ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেটের বেশিরভাগ ব্যয় যখন পর্নোগ্রাফি দেখায় বা কুরুচিপূর্ণ কাজে ব্যবহূত হয়, তখন আমাদের দেশে প্রচলিত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ প্রয়োগ দেখা যায় না। অথচ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ আইনে মামলা করার নজিরও শুরু হয়ে গেছে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনএ’র মহাসচিব ড. মেজর (অব.) হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট কাজী ছাব্বির, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল ইসলাম, লেখক রাজু আহমেদ খান, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা সীমা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, প্রচার সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads