টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল: অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ আইসিইউ চালু হয়নি দুই সপ্তাহেও

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল: অগ্নিকাণ্ডে বন্ধ আইসিইউ চালু হয়নি দুই সপ্তাহেও

  • টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২১

অগ্নিকাণ্ডের দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও চালু হয়নি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। ফলে আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার ১২ উপজেলার করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীরা।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পরই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়। পরে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিইউতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেশিনের মাত্রা অতিরিক্ত ব্যবহার ও নির্দেশনা অনুযায়ী মেশিন ব্যবহার না করার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রতিবেদনে আটটি বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের পর দুই সপ্তাহ পার হলেও আইসিইউ সেবা চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে এ জেলার মুমূর্ষু করোনা রোগীরা এখন আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৫২ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইসিইউ চালু না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের ঢাকায় রেফার্ড করা হচ্ছে। ঢাকায় আইসিইউ ব্যয় বহন করতে অনেক রোগীর পরিবার হিমশিম খাচ্ছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আইসিইউ সেবা বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের অন্যত্র রেফার্ড করা হচ্ছে। হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না পেয়ে অনেকেরই সুচিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু হচ্ছে অনেকের।

এ বিষয়ে করোনা রোগীর স্বজন সোলাইমান মিয়া বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ চালু না থাকায় আমার বাবাকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হচ্ছে। ঢাকার চিকিৎসা ব্যয় চালানো আমাদের জন্য কষ্টের তবুও শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যাচ্ছি।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, আইসিইউ এখনও চালু হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ দ্রুত করা হচ্ছে। আইসিইউ প্রস্তুতের কাজ অনেকটাই শেষের দিকে। খুব দ্রুতই আইসিইউ সেবা চালু হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ, গত ১৫ জুলাই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের সূত্রপাত হয় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা থেকে। ওইদিন ইউনিটের ১০টি শয্যায় থাকা রোগীদের তাড়াহুড়ো করে হাসপাতালের বাইরে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। অক্সিজেন সাপোর্ট না পেয়ে অনেক রোগীর অবস্থা অবনতি হয়। এমতাবস্থায় একাধিক রোগীকে অন্যত্র রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ওইদিন বাইরে অনেকেরই মৃত্যু হয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads