জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা চত্বরে উচ্চ ফলনশীল বিটি-২ জাতের চা চারা রোপনের মাধ্যমে গতকাল রোববা জেলায় ক্ষুদ্রায়তন চা আবাদের সূচনা করলো বাংলাদেশ চা বোর্ড। এর ফলে এ অঞ্চলে সমতল ভূমিতে চা আবাদ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনার পথ আরও সম্প্রসারিত হলো।
ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষ সম্প্রসারণে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলের বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. নাঈম মোস্তফা আলীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ টিম গত ২৪ ও ২৫ অক্টোবর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার চা চাষযোগ্য জমি নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শন ও চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মৃত্তিকা নমুনা সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চা বোর্ডের টিমের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনের পর গতকাল সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিস ও চা চাষে আগ্রহী কৃষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াস উদ্দীন পাঠান, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ।
ৱসভায় চা বোর্ডের বিশেষজ্ঞেরা ক্ষুদ্র পরিসরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে, সহজ উপায়ে কিভাবে লাভজনকভাবে চা আবাদ ও গাছের পরিচর্যা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এ অঞ্চলে ভবিষ্যতে চা চাষ বৃদ্ধির বিষয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও আগ্রহী চাষিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
চা বোর্ড সূত্র জানায় , বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২৩৫ একর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য 'বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ' শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী, বকশীগঞ্জ এবং জামালপুর সদর উপজেলার ১২৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্প্রসারণ করা হবে। বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির যাচাই বাছাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন উক্ত প্রকল্পের ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্য পেশ করেছেন। বাণিজ্য সচিব এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ জহিরুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের অংশ হিসেবে খুব শ্রীঘ্রই জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলা পরিদর্শন করবেন বলে পরিদর্শক টিম জানিয়েছেন।
চা বোর্ড সূত্র আরো জানায়, জামালপুর, শেরপুরসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে চা আবাদের সম্ভাব্যতা বিষয়ে ২০০৪ এবং ২০১৯ সালে পরিচালিত পৃথক সমীক্ষায় দেখা যায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের ৫টি জেলার ১৫টি উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা আবাদ সম্ভব। উক্ত জমি চা আবাদের আওতায় আনা হলে বছরে এ অঞ্চল থেকে ১৬.৩৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হবে।
ফলে ওই এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





