অর্থ পাচারের মামলায় বহু বিপণন কোম্পানি (এমএলএম) ‘ইউনিপে টু ইউ’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) মুনতাসির হোসেন ইমনসহ (৩৭) ছয়জনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ওই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ-৩-এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এ রায় দেন। একই সঙ্গে আসামিদের ২ হাজার ৭০২ কোটি ৪১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৪ টাকাও অর্থদণ্ড করা হয়। রায় ঘোষণার ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে এই টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ইউনিপে টু ইউ’র বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ইউনিল্যান্ডের পরিচালক শহীদুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাসুদুর রহমান, জিএম এম জামসেদ রহমান, উপদেষ্টা মঞ্জুর এহসান চৌধুরী এবং ইউনিল্যান্ড লিমিটেডের পরিচালক এইচএম আরশাদ উল্লাহ। দণ্ডিতদের মধ্যে মুনতাসির, জামশেদ ও আরশাদ আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এজহারের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রায় সাড়ে ১৩শ’ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি শাহবাগ থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওই বছরের ২২ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ৬ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। মামলায় ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন।
রায়ে আদালত বলেন, অর্থ পাচার আইনের অপরাধ আসামিদের বিরুদ্ধে প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেক আসামি ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আবার ছয় আসামিকে ২ হাজার ৭০২ কোটি ৪১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৪ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। অর্থদণ্ডের সব টাকা রাষ্ট্র পাবে।
আদালতের রায়ে আরো বলা হয়, মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন হিসাবে অবরুদ্ধ আছে ৪২০ কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৩ টাকা। এই টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বহুধাপ বিপণন প্রতিষ্ঠান ইউনিপে টু ইউ-এর নামে এবং আসামিদের পরিচালিত সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
স্বল্প সময়ের মধ্যে অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা জমা নিয়ে তা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর করার অভিযোগ এনে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি তদন্ত করে ছয়জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ইউনিপে টু ইউর চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৬ জুলাই বিচার শুরু করেন আদালত। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত।
মামলায় বলা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে যে, সোনা বিনিয়োগের নামে আসামিরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে। পরে ওই টাকার উৎস গোপন করার জন্য ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক হিসাবে তা স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন আসামিরা।