চীনে খাদ্য ও পানি সংকটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

সংগৃহীত ছবি

এশিয়া

চীনে খাদ্য ও পানি সংকটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনে আটকা পড়া আরো ১৭২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের কারণে সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় তারা দিন কাটাচ্ছেন। ফলে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন তারা। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরের কাছেই ইচাং শহরে অবস্থান করছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচাং প্রদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছি অনেক দিন ধরে। খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ খাবার বা পানি সরবরাহ করেনি। ইচাংয়ের চায়না থ্রি গর্জেস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দ্বীপায়ন রায় বলেন, আমরা এখানে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ঘুমাতে পারি না। খাওয়া নেই, খাবার পানি নেই। ইচাং শহর উহানের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে এখানেও সবকিছু অবরুদ্ধ হয়ে আছে।

এখানে ১৭২ জন বাংলাদেশি আছে। আমরা ট্যাপের পানি ফুটিয়ে পান করছি। এমন বন্দি অবস্থায় বেশিদিন থাকলে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ব। পানি ফুটিয়ে খাওয়া যায়, কিন্তু খাবার না থাকলে তো আর রান্না করা যায় না। আমাদের ডরমিটরি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বাইরে যেতে পারি না এবং কেউ ভেতরেও আসতে পারে না। ইউনিভার্সিটি খাবার দিতে চেয়েছে, কিন্তু তিন দিন আগে খাবার অর্ডার করেছিলাম, এখন পর্যন্ত পাইনি। এ অবস্থায় আমরা এখানে কতদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকব, জানি না। ট্রেন স্টেশন, বিমানবন্দর বন্ধ। সরকারের সাহায্য ছাড়া আমরা এখান থেকে বের হতে পারব না। তাদের দেশে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানান এ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

তিনি আরো জানান, আমাদের এখানে কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু ইউনিভার্সিটিতে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত। বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকটে অচিরেই অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বে। আমরা সবাই দেশে ফিরতে চাই। এখানে বদ্ধ পরিবেশ, চারদিকে মৃত্যুর হাহাকার।  সকালে ঘুম ভাঙে অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। আমরা জানি, দেশে ফিরলে ১৪ দিন আশকোনাতে থাকতে হবে। সেখানে থাকতেও আমরা প্রস্তুত। শুধু আমাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করুন।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চীনের উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটে মোট ৩১২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ২৯৭ জন, এক বছরের বেশি বয়সী ১২ জন ও এক বছরের নিচে তিনজন। আটজনের শরীরে জ্বর থাকায় তাদেরকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বাকিদের রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারান্টাইন অবস্থায় রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকাদেরও আশকোনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, উহান শহরেই সর্বপ্রথম করোনাভাইরাস দেখা দেয়। চীনের মূল ভূখণ্ড ও এর বাইরে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২ জন। মঙ্গলবার চীনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরো ৩ হাজার ৮৮৭ জন। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত চীনে এ ভাইরাসে ২৪ হাজার ৩২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads