ঢাকা ও সিলেট পর্বে দারুণ ফর্মে ছিল মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংস। প্রথম দল হিসেবে আগেভাগেই প্লে অফ নিশ্চিত হওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ঘরের মাঠে চেনা ছন্দে নেই দলটি। চট্টগ্রাম পর্বে হেরেই চলেছে মুশফিক শিবির। সর্বশেষ তৃতীয় পরাজয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের কাছে। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চিটাগংকে ৭ উইকেটে (বৃষ্টি আইনে) পরাজিত করেছে তামিম-ইমরুলদের কুমিল্লা।
দারুণ এই জয়ে প্লে অফের খুব কাছাকাছি চলে গেল কুমিল্লা। গতকাল রাতের ম্যাচে রংপুর জিতে থাকলে প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে গেছে তামিমদের, সঙ্গে রংপুরেরও। ১০ ম্যাচে ৭ জয়, ৩ হার কুমিল্লার। পয়েন্ট ১৪। সেখানে ১০ ম্যাচে চিটাগংয়ের জয় ৬টিতে, হার ৪টি। পয়েন্ট ১২।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ১৯ ওভারে। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে চিটাগং ভাইকিংস করে ৮ উইকেটে মাত্র ১১৬ রান। জবাবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ১৪ বল হাতে রেখে। মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে। বল হাতে দারুণ ক্যারিশমা দেখানো কুমিল্লার পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।
সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তেমন বেগ পেতে হয়নি কুমিল্লাকে। শুরুটা ভালোই করেন তামিম ও এনামুল হক বিজয়। যদিও বিজয় বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দলীয় ২৬ রানের মাথায় তিনি বিদায় নেন খালেদের বলে উইকেটের পেছনে শাহজাদের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে। ১৩ বলে তিনি করতে পারেন মাত্র ৮ রান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে জমে যায় তামিম ও শামসুর রহমানের জুটি। দুজনে দলকে টেনে নিয়ে যান ৯১ রান পর্যন্ত। ২২ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ রান করে আবু জায়েদের বলে আউট হন শামসুর রহমান।
অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ৮ বলে ৮ রান করে বিদায় নিলেও জয়ের জন্য দুশ্চিন্তায় ছিল না কুমিল্লা। বাকি কাজটুকু পেরেরাকে সঙ্গে নিয়ে সারেন তামিম ইকবাল। ৫১ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। চলমান বিপিএলে তামিমের এটি দ্বিতীয় ফিফটি। তামিমের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। সাত বলে ১০ রানে অপরাজিত থাকেন থিসারা পেরেরা। বল হাতে চিটাগংয়ের হয়ে জায়েদ সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। খালেদ নেন এক উইকেট।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল চিটাগং। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে শূন্য রানে ফেরেন সাদমান ইসলাম। ঠিক তিন বলে ওই শূন্য রান করেই আউট হন ইয়াসির আলী। সাদমানের ক্ষেত্রে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে রিভিউ নিয়ে সফল হন বোলার সাইফুদ্দিন। আর ইয়াসিরের ক্ষেত্রে তেমন কিছু করতে হয়নি। ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান বল বুঝে উঠতে না পেরে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। চিটাগংয়ের দলীয় রান তখন মাত্র ৩।
দলীয় ১৭ রানে আউট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম (৬)। ওয়াহাব রিয়াজকে স্লিপের পাশ দিয়ে পাঠাতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের কাছে ধরা পড়েন। পঞ্চম ওভারে ১৭ রানে ৩ উইকেট হারানো দলটি এরপর মাঠে নামায় নজিবুল্লাহ জাদরানকে। আক্রমণকেই সেরা রক্ষণ মেনে নামা এই ব্যাটসম্যান গোটা দুই ছক্কাও মারলেন। কিন্তু দলকে ৩৬ রানে রেখে জাদরানও (১৩) ফিরলেন সপ্তম ওভারে। অন্য পাশে অসহায় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ শাহজাদ।
এরই ধারা বজায় রেখেছেন ডেলপোর্ট (৬) ও সিকান্দার রাজাও (৩)। বাজে বলে দুজনই আফ্রিদির শিকার। ১২ ওভার শেষে ভাইকিংসের স্কোর বোর্ডও তাই অমন ভগ্নদশা (৬৫/৬) দেখাচ্ছিল। ১৩তম ওভারের শেষ বলে স্কোর বোর্ডকে একদম রুগ্ণ বানিয়ে দিলেন মোসাদ্দেক (৭০/৭)। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে গেলেন একপ্রান্ত ধরে রাখা শাহজাদ। নিজের নামের সঙ্গে বেমানান এক ইনিংস খেলেই ফিরতে হলো আফগান ওপেনারকে। ৩৫ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় মাত্র ৩৩ রান করেন শাহজাদ।
ইনিংসের বাকি সময়টা সে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২৪ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ রান তোলেন তিনি। শেষ ৬ ওভারে ৪৬ রান তুলে কোনোরকম ১০০ পার করে চিটাগং। বল হাতে কুমিল্লার হয়ে রুদ্রমূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি। ৪ ওভারে দেন মাত্র ১০ রান। উইকেট পান দুটি। সাইফুদ্দিন ও ওয়াহাব রিয়াজও নেন দুটি করে উইকেট। মেহেদী হাসান পান একটি উইকেট।





