নাম তার নুরী বেগম। স্বামী মতিয়ার রহমান পেশায় রংমিস্ত্রি। তার বাড়ি পলাশবাড়ীর পশ্চিমপাড়ায়। নুরী বেগমের জীবনের গল্প-নাটক সিনেমাকেও হার মানায়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নুরীর জন্মদাতা বাবা একাধিক বিয়ের কারণে শুরু হয় নুরীর জীবনে অবহেলা ও সৎমায়ের নির্যাতন। একসময় তাকে দত্তক নেন কুড়িগ্রাম শহরতলির হরিরাম গ্রামের ট্রলিচালক নজরুল ইসলাম। সেখানে অভাব-অনটনের মধ্যে বড় হয় নুরী। একটা সময় বিয়ে হয় সদর উপজেলার বেলগাছা পলাশবাড়ীর পশ্চিমপাড়ার রংমিস্ত্রি মতিয়ারের সঙ্গে। নুরী প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। পরে তার দত্তক নেওয়া মা-বাবা রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসা করলে তিনি কিছুটা সুস্থ হন। একইভাবে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় আবারো মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরী। সাধ্যমতো কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করান স্বামী মতিয়ার রহমান। এতে আশানুরূপ নুরী সুস্থ না হওয়ায় মতিয়ার রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এতে নুরী আরো ব্যাপকভাবে মানসিক
ভারসাম্য হারিয়ে বাড়ি ছাড়েন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এলেও দ্বিতীয় স্ত্রীর গালিগালাজ আর স্বামীর অবহেলায় বেশিদিন থাকা হয় না তার। এভাবে তিনি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণরূপে বাড়ি আসা বন্ধ করে দেন। রাত্রি যাপন করেন শহরের হাটে-বাজারে। রাত পোহালেই কুড়িগ্রাম শহরতলির ত্রিমোহনী ও আশপাশের হাটে-বাজারে দেখা যায় নুরীকে।
গত কিছুদিন যাবৎ নুরীকে দেখা যাচ্ছে ৭/৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ইতোমধ্যে তার আন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তার গর্ভের সন্তানের পিতা কে-এ প্রশ্ন সর্বমহলের।
এ ব্যাপারে কথা হলে নুরীর স্বামী রংমিস্ত্রি মতিয়ার রহমান বলেন, আমার স্ত্রী নুরী দুটি সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সে মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি নাই। ২/৩ মাস সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। তাতে কোনো লাভ হয় নাই। বাড়িতে নিয়ে গেলেও সে থাকে না। যদি ঢাকায় নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো যেত আমার বিশ্বাস সে ভালো হতো।





