সারা দেশ

চিকিৎসক মুখ ফিরিয়ে নিলেও, পাশে দাঁড়িয়েছেন শিবলী সাদিক এমপি

  • ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

৬৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা তারাবানু। শাড়ীতে আগুন লেগে ঝলসে গিয়েছে তার পুরো শরীর। চিকিৎসার জন্য উত্তরাঞ্চলের বড় বড় দুটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছেন দুটি হাসপাতালেরই বড় বড় চিকিৎসরা। কিন্তু সেই সময় তারাবানুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং তার সকল দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন দিনাজপুর-৬ (ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য শিবলী সাদিক।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর (সাউথগাড়ী) গ্রামের মৃত আকাব্বর আলীর স্ত্রী তারাবানু (৬৮)। গত মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারী) রান্না করতে গিয়ে গাড়ীর আঁচলে আগুন লেগে ঝলসে যায় তার পুরো শরীর। চিকিৎসার জন্য পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে ভর্তি করায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে পুরো শরীর আগুনে ঝলসে যাওয়ায় এবং ক্ষতের পরিমান বেশী হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর তাকে ভর্তি করানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে সেখানেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন চিকিৎসক। তার পুরো শরীর ঝলসে যাওয়ায় তাকে সেখান থেকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার দিনই স্থানীয় সমাজসেবক ইঞ্জিনিয়ার ছাপ্পু সাংসদ শিবলী সাদিক কে বিষয়টি অবহিত করেন। দুটি মেডিকেল থেকে ফিরে আসার পরে গতকাল (২৯ জানুয়ারী) শুক্রবার রাতে সাংসদ তারাবানুর খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেন। এছাড়াও তারাবানু যতদিন জীবিত থাকবে তার সকল দায়িত্ব নিজে বহন করবেন বলে আশস্থ করেন সাংসদ ।

দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক বলেন, আমি খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমার প্রতিনিধি পাঠিয়ে ওই বৃদ্ধার খোঁজখবর নিয়েছি এবং আমার সাধ্যমত সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাকে যেহেতু দুটি মেডিকিল থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তার পুরো শরীরে ক্ষত হয়েছে। ঘোড়াঘাট উপজেলার আরএমও কে নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি নিয়মিত তার খোঁজখবর নিবেন এবং প্রাথমিক যত চিকিৎসা দরকার সেটা তিনি প্রদান করবেন। আমি যতদিন বেঁচে আছি আমার সাংসদীয় এলাকার প্রতিটি অসহায় মানুষের পাশে সাধ্য মত আমার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেব।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুর নেওয়াজ আহম্মেদ বলেন, তারাবানুর শরীরের ২৫ ভাগ বার্ণ হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে রংপুরে রেফার্ড করেছিলাম। তিনি এখন নিজের বাড়িতে আছেন এবং আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ হয়েছেন। আমরা নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখছি। আমাদের মেডিকেল টিম তাকে সব ধরণের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads