ক্যাম্পাস

চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান সংকটে জাককানইবি মেডিকেল সেন্টার

  • মোকছেদুল মুমীন
  • প্রকাশিত ৮ নভেম্বর, ২০২১

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মেডিকেল সেন্টার ‘ব্যাথার দান’। নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা সেবা মেলছে না। প্রায় ৮০০০ শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৪ জন। প্রতি ২,০০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসক মাত্র ১ জন। তার ওপর নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান চিকিৎসক। সব চিকিৎসক আবার ঠিকমতো আসেন না। সব ওষুধপত্র বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। নেই রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা, ইসিজি কক্ষ ও প্যাথলজি ল্যাব। এতসব সমস্যা ও অভিযোগ নিয়েই চলছে চিকিৎসা কেন্দ্রটি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টারটিতে চিকিৎসা সেবার বিশেষ কিছুই নেই। সামান্য কোন আঘাত অথবা অসুখ নিয়ে চিকিৎসার জন্য গেলেও চিকিৎসা না দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দায়িত্বশীল আচরণ করেন না ডাক্তার ও স্টাফরা। সামান্য ব্যান্ডেজ ও ড্রেসিং করার মতো জনবলও নেই। ডাক্তার নামেমাত্র প্রেসক্রিপশন দিলেও মেডিকেল সেন্টার থেকে দেয়া হয় মাত্র দু'দিনের ঔষধ, বাকিগুলো বাইরে থেকে কিনতে হয়।

‘সর্বরোগের মহৌষধ প্যারাসিটামল’ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘যেকোনো অসুস্থতায় প্যারাসিটামলই একমাত্র ওষুধ। অন্যান্য ওষুধ থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ডোজের ওষুধ মেলা ভার। নেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীও।

এ বিষয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, “আমরা নিজেদের অর্থব্যায়ে, নিজেদের তত্ত্বাবধানে বাইরে থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়ে এসে মাঝে মাঝে মেডিকেল সেন্টারটি পরিষ্কার করছি। অনেক সময় বাধ্য হয়ে রক্ত মাখা কাপড়, গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা আমাদের নিজেদেরও পরিষ্কার করতে হয়।”

সিনিয়র মেডিকেল অফিসার আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, “প্যাথলজি সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের কোনো টেকনোলজিস্ট নেই, নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া আমাদের মেডিকেল সেন্টারটিতে নিয়ম অনুযায়ী ৪ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। আমাদের পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে শিক্ষার্থীদের হয়তো শতভাগ সার্ভিস দিতে পারিনা। জনবল বাড়ানোর জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বার বার অবহিত করেছি।”

সিনিয়র মেডিকেল অফিসার  ডা. এম এম আশরাফ উদ্দিন তালুকদার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, “পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, নেই পর্যাপ্ত নার্সও। সর্বসাকুল্যে স্টাফ আছেন মাত্র সাত জন। টেকনিশিয়ান তো নেইই। ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন আছে, কক্ষ নেই। টেকনিশিয়ানের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যন্ত্রগুলো। প্যাথলজি ল্যাব নেই। স্থান সংকুলান জনিত সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে প্রথম থেকেই। নতুন ভবন নির্মাণের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের বালাই নেই। প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই৷ সর্বোপরি এই মেডিকেল সেন্টারের সামগ্রিক অবস্থা খুবই নাজুক।

ছাত্র উপদেষ্টা তপন কুমার সরকার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, “নতুন হল খোলা হলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে। যেকোনো মূহুর্তে যে কারও সমস্যা হতে পারে। আমি চাই মেডিকেল সেন্টারটি যেন ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা হয়। পাশাপাশি যেন এর সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়।”

রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড.মোঃ হুমায়ুন কবীর সমস্যার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, “আমরা সামনে মেডিকেল সেন্টারকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছি।”

উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘‘মেডিকেল সেন্টার ব্যথার দানে কিছুই করতে পারিনি। সদিচ্ছা ছিল, কিন্তু দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে না পারায় তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও পর্যাপ্ত চিকিৎসক নাই, নার্সও নাই। সর্বোপরি এটির অসহায় অবস্থা। এসব পদে জনবল নিয়োগের চেষ্টা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় সেগুলো সম্ভব হয়নি।’’

 

শিক্ষার্থী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads