চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা উপজেলা চরফ্যাসনের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা ঢালচর, চর নিজাম,চর ফারুকি, মুজিব নগর, চর কুকরি মুকরি ইউনিয়নের চর পাতিলা'র নিম্নাঞ্চলে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া গবাদি পশু, পাখি ঢেউয়ের পানিতে ভেসে গেছে।
মৎস্য খামারিদের মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। রিমালের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে উপজেলার ৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর,
এর ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার পর এর প্রভাবে ২য় দিনেও উপজেলা জুড়ে বৃষ্টিসহ তীব্র ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নেওয়া মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো বাতাসে চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশে গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুতের সঞ্চালন তার ছিড়ে গেছে। এর ফলে ২ দিন যাবত উপজেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে । আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানান আবাসিক প্রকৌশলী।
চরফ্যাসন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওর) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান,রেমালের প্রভাবে ঢেউয়ের সাথে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক এলাকায় বাঁধ রক্ষায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণে জিউ ব্যাগ ও ডাম্পিং কাজ চলমান রয়েছে।
এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ধান, বাদাম, ডাল,মরিচসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নওরীন হক জানান, উপজেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে। আমি অনেক এলাকা পরিদর্শন করে । আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে খাবার বিতরণ করছি। সার্বিক বিষয় মনিটরিং করছি।





