রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মঞ্জু শেখ (২৭) নামের এক ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলের চালককে কুপিয়ে হত্যা করে তার মোটর সাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে গেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। মঞ্জু গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রহমান ফকির পাড়া গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মঞ্জুর পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দূরে দৌলতদিয়া আক্কাস আলী হাইস্কুল সংলগ্ন আইনউদ্দিন ব্যাপারীপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে মঞ্জু শেখের লাশ পাওয়া যায়। সকালে স্থানীয় কৃষকেরা কাজ করতে গিয়ে তার লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তার মুখের নিচে, ঠোঁটের ওপরে ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল। এছাড়া তার একটি পায়ের রগ কাটা ছিল।
নিহতের বাবা ও মা জানান, তার ছেলে ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালাতো। গতকাল শুক্রবার বেলা একটার দিকে গোসল করার সময় অপরিচিত এক তরুণ বাড়ির কাছে এসে ফোন করলে মোটরসাইকেল নিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যায় মঞ্জু। ছেলের অপেক্ষায় থেকে রাতে ফোন করলে মঞ্জু জানায়, আসতে একটু দেরী হবে। কার সাথে আছিস জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, ‘আমি একজনের সাথে আছি। সে চেয়ারম্যানের হ্যাচারীতে চাকরী করে।’
নিহতের বাবা বাবলু শেখ আরো জানান, সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মঞ্জুর সাথে আমার কথা হয়। ওই সময় সে জানায়, সে দৌলতদিয়া ঘাটে আছে এবং তখনই বাড়ির পথে রওনা দিবে। মঞ্জুকে বাড়িতে নেয়ার জন্য তার বাবা বাড়ী থেকে আধা কিলোমিটার দুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যান। তখন তিনি ভাবেন হয়ত জরুরী কোনো কাজে আটকে গেছে। বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেলে রাত তিনটার দিকে মঞ্জুর স্ত্রী তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানান, মঞ্জুর বাড়ি ফেরেনি। এরপর মঞ্জুরকে ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বাবলু শেখের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মঞ্জু ছিলো সবার বড়। আদরের ছেলেকে ছোট বয়সেই বিয়ে দিয়েছিলেন। ওর স্ত্রীর নাম স্বপ্না আক্তার। মুসলিমা নামে তার পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান রয়েছে। মঞ্জুর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার আহাজারী করতে করতে বলেন, ‘আমাকে এই অল্প বয়সে যারা বিধবা করেছে, আমার মেয়েকে এতিম করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে তার মোটর সাইকেলটি ছিনতাইয়ের জন্যই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিশদ তদন্তে এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।