জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক খামারিবান্ধব নন। তিনি খামারিদের কোনও সহযোগিতা করছেন না। তিনি এখন মাংস ও গুড়া দুধ আমদানিকে উৎসাহিত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। কোরবানিতে চোরাইপথে গরু আসা বন্ধ, রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তা ও গুড়া দুধের শুল্ক বাড়ানোর দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আযোজন করা হয়।
বিডিএফএ সভাপতি আরো বলেন, আগে ডাক্তাররা মোটরসাইকেল যোগে আসতো তাদের ২০০-৩০০ টাকা দিলেই হতো। এখন ভ্রাম্যমাণ ভ্যাটেরেনারি হাসপাতালের কারণে ডাক্তারদের মাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুন বর্তমানে ৫-১০ হাজার টাকার নিচে মেলে না সেবা।
গুড়া দুধের উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন দুধের প্রয়োজন। তবে উৎপাদন হচ্ছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার টন। পুষ্টির চাহিদা দেশের দুগ্ধ খামারের মাধ্যমেই সম্ভব। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও বেশ কিছু বাধার কারণে দুধের উৎপাদন বাড়ছে না। এসব বাধা দূর করলে দেশ দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। আমরা মনেকরি দুধ উৎপাদনের প্রধান বাধা ও হুমকীর মুখে পরবে দেশীয় উৎপাদন। নানা অযুহাতে বিদেশ থেকে ব্লাক ফিল্ড নামের গুড়া দুধ আমদানী হচ্ছে। শিশুখাদ্য হিসেবে যে সব দুধ আমাদের দেশে উৎপাদন হয়না শুশু সেগুলো আমদানি শুল্ক আরো কমানো প্রযোজন। বাল্ক ফিল্ড মিল্কে কোন ফ্যাট থাকে না। সেখানে ভেজিটেবল ফ্যাট দেওয়া হয়। বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ। এটা করতে আমদানিতে কোটা তৈরি, শুল্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
জামাল হোসেন নামে এক প্রান্তিক খামারি বলেন, আমি ডিজির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিন দিন পরে দেখা করার জন্য সময় দেন। গরু অসুস্থ হলে ডাক্তারদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
মোহাম্মদপুরের আদাবরের খামারি রাশিদা বেগম জানান, তার ২০টি গাভীর মধ্যে ১৫টি মারা গেছে। গরু অসুস্থ হলে ডাক্তারকে ফোন দিলে ১০ হাজার টাকা চায়। একদিন পরে খামারবাড়ি থেকে ডাক্তার গেছে। গরু যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন ডাক্তারদের ফোন দিলে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি জানায়। বাধ্য হয়ে ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ডাক্তারের সামনেই দুটি গাভী মারা গেছে। কী রোগ হয়েছিল তা জানতে তারা পরীক্ষার জন্য আলামত নিলেও এখনো রিপোর্ট দেয়নি। আমি এখন নি:স্ব। ব্র্যাক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি এখন ঋণের টাকা পরিশোধোর অবস্থায় নেই বলেও জানান এই ক্ষতিগ্রস্ত খামারি।
কুমিল্লার খামারি সজীব হোসেন বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের অসুস্থ গরু আমদানি হচ্ছে। এসব গরু লবণ পানি ও খড় ছাড়া কিছুই খায় না। এসব গরু আমদানি করে দেশিয় গবাদিপশুকে হুমকির মুখে ফেলা দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত খামার ও খামারিদের সরকারি সহায়তা দাবি জানিয়ে ইমরান হোসেন বলেন, খামারিদের ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত পশুর চিকিৎসা, গরুর ঘর তৈরি, খামারিদের ব্যাংকঋণ মওকুফ করে নতুন সুদবিহীন কৃষিঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
চোরাইপথে গরু আসছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ, অন্যদিকে কোরবানির ঈদে প্রতিবছর উদ্বৃত্ত থাকে ২০ লাখের বেশি পশু। এবারও চাহিদার চেয়ে ২৩ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত আছে। তবু ঈদুল আজহা সামনে রেখে নানা কৌশলে ভারত ও মিয়ানমার থেকে ঢুকছে গরু-মহিষ। কিছু সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকলেও বেশ কয়েকটি এলাকা দিয়ে অন্য বছরের চেয়ে বেশি পশু ঢুকছে এবার।
বিডিএফএর সভাপতি মো. ইমরানের হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের সহসভাপতি আলী আজম শিবলী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ ইমরান,সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম নাজীব উল্লাহ, আলী আজম রহমান শিবলী, অর্থ সম্পাদক জাফর আহমেদ পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।





