স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। দিনকে দিন মনে না করে, রাতকে রাত মনে না করে একনিষ্ঠ অধ্যয়নে ব্যস্ত থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। ভর্তিযুদ্ধকে জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নেয় কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে এসেই সবার লক্ষ্য থাকে ক্লাসের সেরা ছাত্রটি হওয়ার। অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে ক্লাসের সব কিছুতেই থাকে গভীর মনোযোগ। প্রায় সব ক্লাসেই থাকে শতভাগের কাছাকাছি উপস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরুর দিকে শিক্ষার্থীরা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে শুরু করে। হল জীবনটা শুরু হয় গণরুম দিয়ে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে থাকতে হয় এই গণরুমে। কলেজজীবনে যারা হল বা মেসে থেকে অভ্যস্ত তারা সহজেই খাপখাইয়ে নিতে পারে, কিন্তু সমস্যার সম্মুখীন হয় তারা- যারা কলেজজীবনে হল বা মেসে থাকেনি। সবার সঙ্গে তালে তাল মেলাতে তাদের অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যায়। মিটিং, মিছিল, শোডাউন, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্র্যাকটিক্যাল খাতা লিখতে লিখতে জীবনের ১২টা বেজে যায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের। বছর শেষে যখন রেজাল্ট হয়, সিজিপিএ দেখে তাদের তখন টনকনড়ে। মিটিং, মিছিল, শোডাউন, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্র্যাকটিক্যাল খাতা লেখার মধ্য দিয়ে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ভালো ফল করে, কিছু সংখ্যক খুবই খারাপ। প্রথম বর্ষের রেজাল্ট হওয়ার পর ক্লাসে মোটামুটি খারাপ ছাত্র আর ভালো ছাত্রদের আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়ে যায়। বলাই বাহুল্য, এই গ্রুপটা পরবর্তী বছরগুলোতেও বিদ্যমান থাকে। দ্বিতীয় বর্ষে এসে কোমরের দড়িতে টান পড়ে শিক্ষার্থীদের। মরিয়া হয়ে পড়ে ভালো ফল করার জন্য। তৃতীয় বর্ষে এসে মূলত সিনিয়র-জুনিয়র প্রেমের সূত্রপাত হয়। সমবয়সী প্রেম যেগুলো কিনা প্রথম বর্ষ থেকেই শুরু হয়েছিল সেগুলো সাধারণত এই সময়ে এসেই বিচ্ছেদ হয়। আর যদি বিচ্ছেদ না হয় তাহলে বুঝতে হবে রিলেশন আরো বহুদূর যাবে। ক্লাস অ্যাসাইনমেন্ট আর এটেনডেন্সের খবর নেই। অতি সিরিয়াস পাবলিক অবশ্য ভিন্ন কথা। চতুর্থ বর্ষে ওঠার পর সাধারণত একটা নেতা নেতা ভাব চলে আসে। কাউকে তোয়াক্কা করি না-টাইপ মনোভাব। এই সময়ে ছেলেদের জীবনে প্রথম চিন্তা আসে একটা চাকরি করতে হবে। ভালো একটা জব পেতে হবে। মেয়েরা অবশ্য এই সময়ে এসে জানতে পারে অগণিত প্রতিষ্ঠিত ছেলে তাদের বিয়ে করার জন্য লাইন ধরে আছে। সমবয়সী রিলেশনগুলার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। অনার্স পাস করে মাস্টার্সে এসে গেলে একটা ক্রিটিক্যাল লাইফ শুরু হয়। এই সময় এসেই যখন ছেলেরা তাদের প্রেমিকাকে আগের ব্যাচের কোনো বিসিএস ক্যাডার ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হতে দেখে, তখন তাদের টনকনড়ে। তখন তারাও মরিয়া হয়ে ওঠে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য। মাথায় তখন একটাই চিন্তা, কী করে তার প্রেমিকার বরের চেয়ে ভালো অবস্থানে যাওয়া যায়। একাডেমিক বই থেকেও ডাইজেস্ট বইয়ের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি। যারা বাইরে যাওয়ার ট্রাই করে তারা ভর্তি হয় জেঊ কিংবা ওঊখঞঝ প্রোগ্রামে। অনেকগুলো প্রেমের সমাপ্তি হয়ে যায় মাস্টার্সে এসেই। সবার মধ্যে একটা চাপা প্রতিযোগিতা থাকে। অনার্স আর মাস্টার্সের পর এবার ক্যাম্পাসকে বিদায় জানানোর পালা। সবার দিক আলাদা। আবার কখনো দেখা হবে কি না ঠিক নেই। রেজাল্টের ভিত্তিতে যে গ্রুপিংটা তৈরি হয়েছিল সেটা হঠাৎ করে মিলিয়ে যায়। প্রত্যেকের জীবনের আলাদা করে গল্প তৈরি হয়।