কলারোয়া পৌর নির্বাচন: বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

কলারোয়া পৌর নির্বাচন: বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

  • সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এ নির্বাচনে পৌর এলাকার ৯টি কেন্দ্রে ২১ হাজার ২৮০জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর আগে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে শুক্রবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি জেরীন কান্তার উপস্থিতিতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয় নির্বাচনী সরঞ্জাম। তবে, ব্যালট পেপার পাঠানো হয় ভোটের দিন শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

সকাল থেকেই পৌর এলাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রে নারী পুরুষদের দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।

কলারোয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতীক পেলেও ইতোমধ্যে সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মজনু চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হচ্ছেন নৌকা প্রতীকের মনিরুজ্জামান বুলবুল, ধানের শীষের শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন ও সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলামের স্ত্রী জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নার্গিস সুলতানা। তবে ভোটের দিন ভোট শুরু হওয়ার দুই ঘন্টা পরেও সকাল ১০ টার দিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন তার নির্বাচনী কার্যালয় থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট বর্জন করেন।
ভোট বর্জনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি প্রার্থী অথচ আমাকে কেন্দ্র থেকে মারপিট করে বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা কেন্দ্রে থেকে আমার এজেন্টদের ভোট শুরু হওয়ার সাথে সাথে মারপিট করে বের করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা একটি প্রহনসন নির্বাচন হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সকাল ৯ টার আগেই প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারা শেষ হয়ে গেছে। পৌর সভার ভোটার নয়, এমন নারী-পুরুষদের এনে ভোট কেন্দ্রে রেখে দেওয়া হয়েছে। ভিতরে প্রিজাইডিং অফিসারদের সহযোগিতায় পুলিশ ভোট কেটে বাক্সে ভরছে। এ সব অনিয়মে আমি কোন আইনী সহায়তা পায়নি। তাই আমি এই প্রহসনমূলক ভোট বর্জন করলাম।

সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলামের স্ত্রী জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নার্গিস সুলতানাও বেলা ১১ টার দিকে ভোট বজন করেন। ভোট বর্জনের ব্যাপারে জানতে জানতে চাইলে, তিনিও ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থীর বক্তব্যের সাথে একত্বতা পোষন করেই তিনিও এই প্রহসনমূলক ভোট বর্জন করেছেন।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে অবাধ, সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন চলছে। আমার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা ভোট কাটাসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তারা ভোট বর্জন করেছে, এটা ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ভোটাররা উপলব্দি করেছেন। শেখ হাসিনা উন্নয়নের সরকার। তাই এই উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনার প্রতীক নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে এবং ভোটারা নৌকা মার্কায় ভোট দিচ্ছেন। এটা আমার প্রতিদ্বদ্বি প্রার্থীরা বুঝতে পেরে তারা আজকের এই অবাধ,সুষ্ট ও শান্তিপূর্ণ ভোট বর্জনের মাধ্যমে সরে দাড়িয়েছেন।

এছাড়া নয়টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন ও তিনটি সংরক্ষিত আসনে ১৩ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ^াস।

তিনি জানান, পৌর এলাকায় নয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নয়টি ভ্রাম্যমাণ টিম, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads