সম্পাদকীয়

কর্মীরা তাদের কোন আদর্শটি অনুসরণ করবে

  • মহিউদ্দিন খান মোহন
  • প্রকাশিত ৭ নভেম্বর, ২০২০

রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাদের নেতাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে এবং তা অনুসরণ করবে, এটাই কাঙ্ক্ষিত। নেতারা অনুকরণীয়-অনুসরণীয় হবেন মানুষ সেটাই আশা করে। তবে অনুসরণযোগ্য নেতা হওয়া ভীষণ কঠিন ব্যাপার। সেসব নেতাই কর্মীদের কাছে আদর্শ হয়ে উঠতে পারেন, যারা তাদের রাজনীতি, কর্মকাণ্ড এবং জীবনযাপনের স্টাইল দিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। আমাদের এ উপমহাদেশের রাজনীতিতে অনেক নক্ষত্র রাজনীতিবিদের আবির্ভাব হয়েছে। তাদের অনেকেই আজ পৃথিবীতে নেই; কিন্তু আজো তারা প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। তারা রাজনীতিকে দেশ ও মানবসেবার ব্রত হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বিষটি তাদের কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। তারা রাজনীতি করেছেন মানবকল্যাণের চিন্তাকে মাথায় রেখে। ব্যক্তিগত লাভালাভের বিষয়টি তাদের ভাবনার মধ্যে ছিল না। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে তাদের সে উজ্জ্বল প্রতিকৃতি আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠবেই।

মোহন দাশ করমচাঁদ গান্ধী, যিনি ‘মহাত্মা গান্ধী’ হিসেবে সবার কাছে শ্রদ্ধাভাজন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু, বিপ্লবী এম এন রায়, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, পণ্ডিত জওয়াহের লাল নেহরু, মৌলানা আবুল কালাম আযাদ, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষে রাজনীতির দিকপাল ছিলেন। ভারতবর্ষকে ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য তারা যার যার অবস্থান থেকে অবদান রেখেছেন। তাদের রাজনৈতিক জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই, দেশ ও জনগণের কল্যাণচিন্তা ব্যতীত তারা অন্যকিছু ভাবেননি। সহজ-সরল জীবনযাপন, ব্যক্তিগত বিলাস-ব্যসনকে দুই পায়ে দূরে ঠেলে দেওয়া, অর্থবিত্ত অর্জনের নেশা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা এবং মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদিত হয়ে তারা পরিণত হয়েছেন অনুস্মরণীয়, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে। তারা একেকজন সৎ রাজনীতিবিদের জ্বলন্ত উদাহরণ। তারা সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তারা কেউ শাহিখানার জন্য লালায়িত ছিলেন না, বাস করতে চাননি অট্টালিকায়। কেউ কেউ বাস করেছেন টিনের বা কুঁড়েঘরে। মওলানা ভাসানী তো লুঙ্গি আর খদ্দরের পাঞ্জাবি পরেই জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিত্ত অর্জনের সুযোগ কিন্তু তাদের সামনেও খোলা ছিল। কিন্তু তারা সেদিকে তাকানো তো দূরের কথা, মনেও কখনো সে চিন্তাকে স্থান দেননি। তারা কেন তা করেননি তা ভেবে দেখতে হবে। তারা ওপথে হাঁটেননি এজন্য যে, রাজনীতিকে তারা ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। রাজনীতি ছিল তাদের কাছে সাধনা। সে সাধনার ধনকে ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধারের কুচিন্তা তাই তাদের আচ্ছন্ন করতে পারেনি।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালেও আমরা কি সে দৃষ্টান্ত দেখতে পাই না? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি, সারাটা জীবন দেশ ও জাতির জন্য ব্যয় করে গেছেন। জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কাটিয়েছেন জেলখানায়। ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের কথা ভাবেননি কখনোই। তিনি তো ইচ্ছে করলেই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কাটাতে পারতেন। তার মনেও সেরকম আক্ষেপ যে আসেনি তা নয়। রাজনীতি করতে এসে শাসকদের জুলুম-নির্যাতনের কারণে দুঃখ-বেদনায় কাতর হয়ে কখনো কখনো তার কাছেও মনে হয়েছে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে সাধারণ মানুষ হয়ে যাওয়াই হয়তো ভালো ছিল। সে কথা তিনি তার ‘কারাগারের রোজনামচা’য় লিখেছেনও। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়েছে দেশের কথা, দেশের অধিকারহারা দুঃখী মানুষের কথা। সাথে সাথে মন থেকে কর্পূরের মতো উবে গেছে রাজনৈতিক কারণে নিজের জীবনে নেমে আসা দুর্ভোগ-দুর্যোগ, ব্যথা-বেদনার কথা। ফলে তার আর রাজনীতির মাঠ থেকে চলে যাওয়া হয়নি। নিজের দুঃখ-কষ্টকে ভুলে গিয়ে আত্মনিয়োগ করেছেন দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের কোনো কোনো ঘটনা নিয়ে হয়তো সমালোচনা আছে, তার কোনো কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিয়েও দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু তার দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি ভালোবাসা, দেশের দুঃখী-দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের চিন্তা ও চেষ্টা, সর্বোপরি নিজেকে সব ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে রাখার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই। এখানেই তিনি মহান হয়েছেন, শ্রদ্ধাস্পদ হয়ে উঠেছেন। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অভিষেক হয়েছিল। তার স্বল্প সময়ের রাজনৈতিক জীবনের অনেক পদক্ষেপের সঙ্গেই হয়তো কারো কারো দ্বিমত রয়েছে। অনেক কাজের জন্য তিনি সমালোচিতও বটে। কিন্তু তার ব্যক্তিগত সততা নিয়ে তার চরম শত্রুও প্রশ্ন তুলতে পারবে না। 

ওপরে যাদের কথা অলোচনা করলাম, তারা তাদের রাজনৈতিক জীবনে যেসব দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা শুধু তাদের দলীয় কর্মীদের জন্য নয়, যে কোনো রাজনৈতিক কর্মীর জন্য অনুসরণীয়। অথচ আজ যদি আমরা আমাদের দেশের রাজনৈতিক আকাশের দিকে তাকাই, তাহলে তেমন ক’জন ‘ধ্রুবতারা’ আমরা দেখতে পাব, যাদের দেখে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের পথের দিশা ঠিক করতে পারবে? আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি হলো, আগামীতে হয়তো এমন সময় আসবে, যখন নতুনদের রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য থেকে উদাহরণ হিসেবে কাউকে হাজির করা কঠিন হয়ে পড়বে। সে সময় তাদের স্মরণসভায় ‘তার আদর্শ আমাদের অনুসরণ করতে হবে’— একথা বলা যাবে না। কেননা তাদের ‘আদর্শ’ অনুসরণ করলে নিজেকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, যা ভাবলেই গা ঘিন ঘিন করে ওঠে। 

ক’দিন আগে দেশের বড় একটি রাজনৈতিক দলের একজন প্রয়াত নেতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো। তিনি যে দলটির নেতা ছিলেন সে দলটির উদ্যোগে স্মরণসভা হয়েছে। সে সভায় অনেকেই তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে তার গুণগান গেয়েছেন। দলটির মহাসচিব বলেছেন যে, ওই মরহুম নেতার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। এখন আমরা সেই নেতা কী আদর্শ আমাদের সামনে রেখে গেছেন তা নিয়ে কিঞ্চিৎ আলাপ করতেই পারি। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল বাম রাজনীতি দিয়ে। মওলানা ভাসানীর অনুসারী ছিলেন এক সময়। ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। সত্তর দশকে নির্বাচিত হন ঢাকা পৌর করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার। এরপর যুক্ত হন বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে। সে দলের প্রার্থী হিসেবে চারবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন। আরোহণ করেছিলেন দলটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে। ছিলেন মন্ত্রী এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়রও। এমপি-মন্ত্রী থাকার সময় শোনা না গেলেও মেয়র হবার পর থেকেই তার সম্পর্কে নানা কথা ভেসে বেড়াতে থাকে বাতাসে। এমনকি কমিশন বিষয়ক কর্মকাণ্ডে তাকে কেউ কেউ ‘মি. টেন পারসেন্ট’ হিসেবেও কটাক্ষ করত। দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার বিত্তবৈভব তিনি গড়ে তুলেছিলেন— এমন অভিযোগ বেশ জোরেশোরেই উঠেছিল। ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপদ-বালাই থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য তিনিই সবার আগে দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন। কোনো এক অজ্ঞাত কৌশলে ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের অবসানের পরও তিনি পরবর্তী সরকারের প্রায় দুই বছর মেয়র পদে বহাল থাকেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলার একটিতে তার সাজাও হয়। দণ্ড মাথায় নিয়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকা চলে গিয়েছিলেন তিনি। জীবিত অবস্থায় দেশে আসতে পারেননি। এসেছে তার মরদেহ। আদালত তার অবৈধ আয়ের একটি অংশ বাজেয়াপ্তও করেছে রাষ্ট্রের অনুকূলে। এখন প্রশ্ন হলো, দলটির কর্মীরা ওই নেতার কোন আদর্শটি অনুসরণ করবে? দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের দৃষ্টান্ত? অনেকে বলেন, মৃত মানুষের সমালোচনা করতে নেই। এ অভিমতের সঙ্গে আমি একমত নই। যে কোনো মানুষ মারা গেলে তার বেঁচে থাকাকালীন কৃতকর্মের সমালোচনা হবেই। আর তিনি যদি হন রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী, তাহলে তো আলোচনা-সমালোচনা অবধারিত। তো, যার কথা এতক্ষণ বললাম তার আদর্শ যদি কর্মীরা অনুসরণ করেন, তাহলে তো তাদের পরিণত হতে হবে দুর্নীতিবাজে!

মৃত ওই নেতাকে এখানে তুলে এনেছি কেবলই উদাহরণ হিসেবে। আজ আমরা যাদের সমাজে নেতা হিসেবে দেখি, তাদের কয়জন অনুসরণ করার মতো ব্যক্তিত্ব সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। খুব অল্প সংখ্যক নেতা ছাড়া বেশিরভাগেরই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এমন যে, তাদের অনুসরণীয় বলে মেনে নেওয়া তো দূরের কথা, নেতা বলে স্বীকার করাই মুশকিল। নেতার যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার, তা তাদের কয়জনের মধ্যে আছে তা জানতে হলে রীতিমতো গবেষণার দরকার হবে।

নেতা হিসেবে যাদের আমরা চিনি বা যারা ওই পরিচয়টি দেন, তাদের বিষয়ে যেসব কীর্তিকাহিনি মাঝেমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তাতে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে হয়। ওইসব নেতার মধ্যে কেউ কেউ সরকারকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা করেন, কেউ করেন সরাসরি চোরাকারবার। অবৈধভাবে আয় করা অর্থের সিংহভাগ পাচার করে দেন দেশের বাইরে। অনেকেই অর্থ পাচারের পাশাপাশি বিদেশে দ্বিতীয় আবাসও গড়ে তোলেন। আত্মীয়-স্বজন কিংবা কাছের কর্মীদের দ্বারা করেন টেন্ডারবাজি, কখনো কখনো নিজেই নেমে পড়েন ও কাজে। না পারলে টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে নিজের বখরাটা আদায় করে নেন শক্ত হাতে। কোথায় নেমেছেন আজ রাজনীতিকরা? এমন কোনো অপকর্ম নেই, যা একশ্রেণির রাজনীতিক করছেন না। এমনকি একজন সাবেক এমপি ভূষিত হয়েছেন ‘ইয়াবা সম্রাট’ খেতাবে! এসব খবর যখন দৃষ্টিগোচর হয়, তখন সৎ রাজনীতিবিদদের লজ্জায় অধোবদন না হয়ে কোনো উপায় থাকে না। এদের মধ্যে কেউ কেউ পৃষ্ঠপোষকতা দেন সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের। নিজেরা না করলেও প্রশ্রয় এবং আশ্রয় দেন খুনি-ধর্ষকদেরও। দেখা যায়, যে সন্ত্রাসী, খুনি বা ধর্ষককে ধরার জন্য পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে, সেই খুনি-দুষ্কৃতকারী স্থানীয় এমপি বা মন্ত্রী মহোদয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। নাম ধরে বললে এমন অনেক এমপি-মন্ত্রীর কথা বলা যাবে, যাদের পরিচয় সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আসন্ন। গত উনপঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য লাভ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্জন করেছে বিস্ময়কর অগ্রগতি। তবে এই সাফল্য আর অগ্রগতির মাঝে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস চাঁদের কলঙ্কের মতোই লেগে আছে। বলা বাহুল্য যে, এ দুটি ক্ষেত্রেই ওইসব রাজনৈতিক নেতার ভূমিকা নাটের গুরুর। আর সে কারণেই দেশের রাজনীতিতে ধরেছে ভয়াবহ পচন। এ পচনের জন্য যারা দায়ী এবং যে ধরনের নেতায় আজ বাংলাদেশ সয়লাব, তারা কি স্মরণীয় হতে পারবেন? যেখানে জনগণ তাদের হাত থেকে নিস্তার পাবার জন্য প্রতিনিয়ত সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন, সেখানে এদের স্মরণ করবে কে? এদের আদর্শ অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে— রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট করা, টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করা, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক ফাঁকি দেওয়া, মাদক ব্যবসা করে ‘মাদক সম্রাট’ খেতাব অর্জন করা, বিদেশে অর্থ পাচার করা, সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া, খুনি-ধর্ষকদের অভিভাবক রূপে নিজেকে প্রমাণ করা। তারা তো এসবই করেন। এসবই তো তাদের আদর্শ!

অনেকেই আফসোস করে বলেন, রাজনীতি আজ এমন পর্যায়ে গেছে যে, একজন আদর্শবান নেতা খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের রাজনীতির পূর্বপুরুষরা আদর্শ ও নিঃস্বার্থ দেশসেবার যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, আজকের বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মধ্যে তা হতাশাজনকভাবে অনুপস্থিত। কেউ কেউ বলেন, আজ যখন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধু বা জিয়ার আদর্শের সৈনিক বলে নিজেদের পরিচয় দেয়, স্লোগান দেয়, পরপারে তাদের আত্মা হয়তো কষ্ট পায়। কেননা তারা যে সততা, দেশপ্রেম, মানবসেবা ও মানবিক আদর্শের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তাদের অনুসারী বলে পরিচয়দানকারী এইসব নীতি-আদর্শহীন লোক তার ধারেকাছেও নেই!

সুতরাং আজকের যারা রাজনীতিক বা নেতা, তাদের স্মরণ করতে গিয়ে যদি কেউ বলে ফেলেন, আমরা ওদের আদর্শ অনুসরণ করতে চাই না, কারণ তাহলে আমরা নিকৃষ্ট মানুষের উদাহরণ হয়ে থাকব, তাহলে সেটা কি খুব বড় অপরাধ হবে?

 

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads