রাজধানী থেকে এক বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের খোঁজ এখনো মেলেনি। তার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
৬২ বছর বয়সী মারুফ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত গাড়িতে ধানমন্ডির বাসা থেকে বিমানবন্দরে ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে আনতে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিদেশ থেকে তার মেয়ের আসার কথা ছিল। ওই সময়ের কাছাকাছি মারুফ তার বাসার ল্যান্ড ফোনে ফোন করে কাজের লোককে জানান, একজন এসে তার ল্যাপটপটা নিয়ে যাবে। তাকে যেন তা দেওয়া হয়। মারুফের ভাই রিফাতের ভাষ্যমতে, মাথায় ক্যাপ পরা তিনজন লম্বা ব্যক্তি মারুফের বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং ক্যামেরা নিয়ে যান। তারপর থেকেই মারুফকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান রিফাত। তবে তার গাড়িটি বিমানবন্দর সড়কের পাশে খিলক্ষেত এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়ির সিসিটিভির ফুটেজ দেখেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেই তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেননি।
মারুফ জামানের মেয়ে শবনম জামান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এক বছর ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা যাদের সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছি, তারা কেউই কোনো অর্থবহ সহযোগিতা করেননি। কাউকে কাউকে তো পাওয়াই যায়নি। কেউ আবার বিরক্তও হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের চাওয়া বাবা জীবিত অবস্থায় বাসায় ফিরে আসুক।
এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, তারা সাবেক রাষ্ট্রদূতের বিষয়ে এখনো কোনো ক্লু পাননি। সেই তিন ব্যক্তির পরিচয়ও জানতে পারেননি। তবে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, গত এক বছরেও আমরা মারুফের কোনো খোঁজ পেলাম না এটি খুবই দুঃখের বিষয়। মারুফের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবারো আবেদন জানানো হয়েছে।





