একমাত্র ভরসা নকল, দেখার কেউ নেই

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

শিক্ষা

একমাত্র ভরসা নকল, দেখার কেউ নেই

  • গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর, ২০১৯

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাথমিক সমাপনি (পিএসসি) পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলেই যেন একমাত্র ভরসা। পরীক্ষা পরিদর্শকরা রয়েছে ভূমিকায়।কেন্দ্র সচিবও যেন নির্বাক! কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারি শিক্ষা আফিসার যেন মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন। অভিভাবক ও শিক্ষকরা ভালো ফলাফলের আশায় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিজেরাই নকল সরবরাহ করছেন বলে দাবী করছেন সচেতন মহল।

গতকাল রোববার সারা দেশের মতো গাইবান্ধাতেও গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পিএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র যেন মাছের বাজারের মতো। পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহ করতে শত শত অভিভাবক  কেন্দ্রের আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন। একটু সুযোগ পেলেই তারা নকলের চিরকুট হাতে ধরে  দিচ্ছেন। পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক শিক্ষকদের যেন নির্বাক। কেউ কোন প্রতিবাদ তো দূরের কথা পারলে নকল করার সহায়তা করছেন। অধিকাংশ পরীক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে নকল করতে দেখা যায়।

মিজানুর রহমান নামের এক অভিভাবক জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে যে যার মতো পারছে আসছে নকল দিচ্ছে, আবার চলে যাচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতে লেখাপড়ার মান আরো কমে গিয়ে নকলের প্রবণতা বেড়ে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক জানান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই নকলের সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে আজ পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে ভালো শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক আতিয়ার রহমান জানান, নকল প্রতিরোধে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু অভিভাবকরাই জোর করে নকল  দিচ্ছেন।

কামালের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কামালের পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পিএসসি পরিক্ষা কেন্দ্র সচিব শাহিনুর ইসলাম সাজু জানান, নকল প্রতিরোধে আমরা সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।

পরীক্ষা কেন্দ্র ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মামুন অর রশিদ জানান, চেষ্টা করেও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না। আমরা নকল মুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজিজুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম হলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads