একটি নম্বরেই পরিচিতি পাবেন নাগরিকরা

স্মার্টকার্ড

প্রতীকী ছবি

জাতীয়

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগ

একটি নম্বরেই পরিচিতি পাবেন নাগরিকরা

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ৭ এপ্রিল, ২০১৯

২০০৮ সালে প্রচলন করা জাতীয় পরিচয়পত্রে পরিচিতি সংখ্যায় অঙ্ক ছিল ১৩টি। পরে জন্মের বছর যোগ করে ১৭ অঙ্কের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়। আর ২০১৬ সাল থেকে বিতরণ করা স্মার্টকার্ডে পরিচিতি নম্বরে অঙ্ক রয়েছে ১০টি। মূলত ভোটার কার্ড হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ করা হলেও এ কার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে বিভিন্ন কাজে। অবশ্য নাগরিকদের পরিচিতির জন্য পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বেশ কিছু প্রমাণ ব্যবহার হয়ে থাকে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে দেশের সব নাগরিকের জন্য একটি করে একক পরিচয় নম্বর প্রণয়ন করছে সরকার। জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হবে এই একটিমাত্র নম্বর। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রে বসবাসকারী ও প্রবাসী নাগরিকের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ, শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদসহ বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মাধ্যমে ২৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি ২৪টি প্রতিষ্ঠান সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) বাস্তবায়ন করবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. আশফাকুল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইউনিক আইডি থেকে কেউ যেন বাদ না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশে বসবাসকারী ও প্রবাসী প্রত্যেক ব্যক্তিকে এককভাবে চিহ্নিত করা হবে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের প্রমাণীকরণ ও দ্বৈততা পরিহার করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা নিজ নিজ সেবা প্রদানে নাগরিকদের জন্য ১০ অঙ্কের একক পরিচিতি নম্বর ব্যবহার করবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর জন্মের পর পর তার বাবা ও মায়ের পরিচয়পত্র যাচাই করে শিশুটিকে একটি একক আইডি নম্বর দেওয়া হবে। ১৮ বছর পূর্ণ হলে এই একক নম্বরটিই জাতীয় পরিচয় নম্বরে রূপান্তরিত হবে। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আইডি নম্বরটি শেষ হবে মৃত্যু নিবন্ধনের মাধ্যমে।

প্রাথমিক স্তরে ভর্তির সময় এই একক পরিচিতি নম্বর ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২টি মৌলিক তথ্য নিতে হবে একক পরিচিতি নম্বরের তথ্যভান্ডার থেকে। একই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রোফাইল তৈরি করা হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রোফাইলেও ব্যবহার করা হবে এ তথ্যভান্ডার।

নাগরিকদের একক পরিচিতি নম্বরের প্রচলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সভাপতি করে কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় ও এ-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের  সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার)। এছাড়া ২৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।

কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সেবা বিভাগ এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব বা সিনিয়র সচিবকে রাখা হয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও অর্থ বিভাগের সচিব, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের পরিচালক, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রেখে আরো কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার আলোকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম শুরু হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম মৌলিক নীতি বাস্তবায়ন করতে এ কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads