জাতীয়

উৎসব ছাড়াই নতুন বই

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিতরণ চলবে ১২ দিন 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২ জানুয়ারি, ২০২১

নতুন বই, মলাট-পাতায় পাতায় নতুনের ঘ্রাণ। এমন নতুন বই দিয়েই বছর শুরু করল সারা দেশের বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসায় গতকাল শুক্রবার থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া শুরু হয়েছে বিনা মূল্যের নতুন পাঠ্যবই। তবে একই দিনে সব শিক্ষার্থীর হাতে বই না দিয়ে এবার সেটা ভিন্ন আঙ্গিকে বিতরণ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস বদলে দিয়েছে প্রায় এক দশক ধরে চলে আসা এই নিয়মের। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এবারে সমাবেশ করে কোনো বই উৎসব হয়নি। তাই ছিলনা কোনো শোরগোল, ছিলনা উৎসবের আমেজ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে নতুন বই তুলে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।  করোনায় স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গতকাল সকাল থেকে স্কুলে স্কুলে শিশু শ্রেণি থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ শুরু হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি শ্রেণির বই বিতরণের জন্য তিনদিন করে সময় দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণে ১২ দিন সময় পাবে স্কুলগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণের ব্যবস্থা করেছে।

এদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি নবম শ্রেণির, ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি অষ্টম শ্রেণির, ৭ থেকে ৯ জানুয়ারি সপ্তম শ্রেণির এবং ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দিতে বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বই বিতরণ করা হচ্ছে। একেকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনদিন ধরে বই দেওয়া হবে। তবে যেসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানে এক-দুই দিনেই বই দেওয়া হয়ে যাবে।  

সরেজমিনে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে বিদ্যালয়ে এসে বই নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অভিভাবকেরা স্কুলে গিয়ে বই নিয়েছেন। আর মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বই নিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এদিকে করোনার সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গেলো বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে।  আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা আছে। কিন্তু পরিস্থিতি জানুয়ারিতে স্বাভাবিক না হলে স্কুল আরো কিছুদিন বন্ধ রাখা হবে। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে ক্লাস চলবে।

২০২১ সালে বিনামূল্যে প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই দেওয়া হবে। আর এ বছর সর্বমোট পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যা ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি। এর মধ্যে প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য দুই কোটি ৫৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৭১টি বই, তৃতীয়-চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ছয় কোটি ৯৬ লাখ, ৯৭ হাজার ৩৭৪টি। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ২৭৫ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদ্রী) শিশুদের জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ ১৩ হাজার ২৮৮টি বিশেষ ভাষার বই বিতরণ করা হবে। তবে এ বছর সাঁওতাল ভাষায় পাঠ্যপুস্তক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার ৯ হাজার ১৯৬ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বইও বিতরণ করা হবে। শিক্ষাকে মানসম্মত করা এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করতে ২০১০ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ করে আসছে। এদিন সারা দেশের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads