রাজস্ব

উচ্চ মূল্যস্ফীতিই এখন অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ

  • প্রকাশিত ৪ জুন, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুই বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এ সময় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ শতাংশের বেশি। মূল্যস্ফীতির রাশ টানতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও লাভ হয়নি, বরং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকার মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে নানা উদ্যোগের কথা বললেও তার সুফল মিলছে না। উল্টো খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে, যা আগের মাস এপ্রিলে ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাসিক হালনাগাদ ভোক্তা মূল্যসূচকে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। গত মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে। এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার আবারও বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ হয়।

চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের। তবে অর্থবছরের গত ১১ মাসের কোনো মাসেই এ হারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি এক ধরনের কর; ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে মূল্যস্ফীতি। আয় বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে গরিব ও মধ্যবিত্তরা সংসার চালাতে ভোগান্তিতে পড়ে। গত দুই বছর ধরে চলা এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। প্রভাব পড়ছে মানুষের যাপিত জীবনে। প্রকৃত মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যের চেয়ে বেশি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বিবিএস জানায়, মে মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। খাদ্যপণ্য যেন নাগালের বাইরে গেছে। সংস্থাটির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে এক বছরের ব্যবধানে ১০০ টাকার খাদ্যপণ্যে দাম বেড়েছে ১০ টাকা ৭৬ পয়সা।

বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিল থেকে বাড়তে বাড়তে মে মাসে খাদ্যপণ্য বৃদ্ধির রেকর্ড গড়েছে। চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা ও তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বাড়ায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে বলে জানিয়েছে। এছাড়া বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দাম কিছুটা কমেছে। মে মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার কমে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

সবশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৫৪ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মুদ্রাস্ফীতি ১৫ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। এটি ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিবিএসের শহর ও গ্রামে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৪৮ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিলে যা ছিল ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে ২৯ বেসিস পয়েন্ট কমে মে মাসে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ হয়েছে।

শহরাঞ্চলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ৬৭ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। এপ্রিলের ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও এ সময়ে ২ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। এপ্রিলের ৯ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৯ দশমিক ০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের তুলনায় ৭ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৯ দশমিক ৯২ থেকে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়েছে।

২০২২-২৩ সালের জুন থেকে মে পর্যন্ত ১ বছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালের একই সময়ে এটি বড় লাফ দিয়ে গড়ে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads