নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদের আগে সাধারণত রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে, তবে চলতি বছর ঈদের আগের মাস মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ চ্যানেলে বা হুন্ডির কারণে রেমিট্যান্স কমেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে যে রেমিট্যান্স এসেছে তা আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
সদ্য সমাপ্ত মার্চে বৈধ পথে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২০০ কোটি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২১ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে পৌঁছেছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য বিদায়ী মাসে দেশে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার ডলার পৌঁছেছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮১ লাখ ১০ হাজার ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ১৮ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ২৩ থেকে ২৯ মার্চ ৪০ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রেরণ করেন তারা। মার্চের ১৬ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার পাঠান প্রবাসীরা। ৯ থেকে ১৫ মার্চ পাঠিয়েছেন ৫০ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। আর ১ থেকে ৮ মার্চ ৫১ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ডলার প্রেরণ করেন তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ২১৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা সর্বোচ্চ। আর গত জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১০ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়বে-এমন ধারণা ছিল। কিন্তু ঈদের আগে ঈদের আগে রেমিট্যান্স কমেছে। অবৈধ চ্যানেলে বা হুন্ডির কারণে রেমিট্যান্স কমেছে বলে মনে করেন তারা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম কিছুটা কমেছিল, তবে তা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশা করেছিলাম, ঈদের আগে ভালো পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে। কেন সেটা এল না, তা বুঝতে পারছি না। তবে অনেকে ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন, আবার এপ্রিলেও অনেকে পাঠাতে পারেন। ঈদের আগে আরও সময় আছে দেশে টাকা পাঠানোর।’
গত বছরের বেশির ভাগ সময়ে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি খুব ভালো না থাকলেও শেষের দিকে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ১৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ১৫৬ কোটি ডলার, মার্চে ২০২ কোটি, এপ্রিলে ১৬৮ কোটি, মে মাসে ১৬৯ কোটি, জুনে ২২০ কোটি, জুলাইয়ে ১৯৭ কোটি, আগস্টে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ, সেপ্টেম্বর মাসে ১৩৩ কোটি, অক্টোবরে ১৯৭ কোটি, নভেম্বর ১৯৩ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে এসেছিল ১৯৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স।
উল্লেখ্য, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবাসীরা ২ হাজার ১৬১ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি ডলার, ২০২০ সালে ২ হাজার ১৭৩ কোটি ডলার এবং ২০১৯ সালে ১ হাজার ৮৩৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে আসে।





